চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: বাঙালির চিরন্তন আদর্শ বীর বিপ্লবী নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু সাহসিকতার এক অপূর্ব নিদর্শন। তিনিই প্রথম ভারতীয় হিসাবে ডুবোজাহাজে চেপে বিপদসংকুল সামুদ্রিক পথে পাড়ি দেন। সালটা ছিল ১৯৪৩। ২ মাস ধরে ডুবোজাহাজে চেপে অসীম সাহসী নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু, তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী আবিদ হাসানের সঙ্গে এই বিপজ্জনক যাত্রা করেন। গোটা পৃথিবীর সামরিক ইতিহাসে, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু ও আবিদ হাসানই বিশ্বের প্রথম মানুষ যাঁরা অতল সমুদ্রের মধ্যে একটি ডুবোজাহাজ থেকে অন্য ডুবোজাহাজে স্থানান্তরিত হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় শত্রুপক্ষর জলসীমায় শত্রুপক্ষর চোখে ধুলো দিয়ে উত্তাল সমুদ্রের ঢেউয়ের মধ্যে এই কাজ করেন অকুতোভয় নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যাঁর নামে ভারতে ভারতীয় নৌসেনার দফতরের নাম রাখা হয়। কলকাতায় ভারতীয় নৌসেনার দফতরের নাম আইএনএস নেতাজী সুভাষ।
১৯৪১ সালের ১৬ জানুয়ারি শীতের নিশুতি রাতে মহম্মদ জিয়াউদ্দিন হিসাবে ছদ্মবেশ ধারণ করে ব্রিটিশ সরকারের চোখে ধুলো দিয়ে গৃহত্যাগ করেন গৃহবন্দি নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে জার্মানি থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইউ১৮০ নামে জার্মান ডুবোজাহাজে চেপে জাপানের উদ্দেশ্যে পাড়ি দেন নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু। ৯০ দিনের কঠিন যাত্রাপথে তাঁর সঙ্গী ছিলেন জার্মানি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং গ্র্যাজুয়েট আবিদ হাসান। জার্মান ডুবোজাহাজ ইউ১৮০ থেকে সামনের দিকের টর্পেডো টিউব সরিয়ে ফেলা হয় অতিরিক্ত জিনিসপত্র রাখার জন্য। ডেনমার্কের সমুদ্র উপকূল ছুঁয়ে নরওয়ের উপকূল হয়ে উত্তাল নর্থ সি পেরিয়ে ডুবোজাহাজ আইসল্যান্ড হয়ে উত্তাল অতলান্তিক মহাসাগরে গিয়ে পড়ে। গোটা বিশ্বে অপারেজয় ব্রিটিশ রাজশক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে এই বিপদসংকুল সামুদ্রিক পথে পাড়ি জমান নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু।
আবিদ হাসান পরে জানান, ডুবোজাহাজের মধ্যে জায়গা বড়োই কম। ডিজেলের গন্ধে শ্বাস নেওয়াই কষ্টকর। জামাকাপড়, খাবার, বিছানা সব তেলে মাখামাখি। ডুবোজাহাজের ভেতরে খিচুড়ি খেতেন নেতাজী ও আবিদ হাসান। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে কীভাবে যুদ্ধ করতে হবে তার নির্দেশ আবিদ হাসানকে দিতেন নেতাজী। আবিদ হাসান তা টাইপ করতেন। আইএনএতে মহিলাদের নিয়ে পৃথক রেজিমেন্ট গড়ার পরিকল্পনা সে সময় করেন নেতাজী। ১৯৪৩ সালের এপ্রিলে দক্ষিণ অতলান্তিক মহাসাগরে ব্রিটিশ বাণিজ্য রণতরী এসএস করবিসকে লক্ষ্য করে টর্পেডো ছোড়ে জার্মান ডুবোজাহাজ। বিপদের মধ্যে অবিচল শান্ত ছিলেন নেতাজী। ডুবোজাহাজের ক্যাপ্টেন মুসেনবার্গ বাকিদের নেতাজীকে দেখে জীবনে চলার পরামর্শ দেন। বিপদসংকুল কেপ অফ গুড হোপ ঘুরে ভারত মহাসাগরে পড়ে জার্মান ডুবোজাহাজ ইউ১৮০।
১৯৪৩ সালে ২০ এপ্রিল পেনাং থেকে রওনা দেয় জাপানি ডুবোজাহাজ আই২৯। ক্যাপ্টেন ছিলেন তেরাওকা। মাদাগাস্কার উপকূলে ২ ডুবোজাহাজের দেখা হয়। সমুদ্র ছিল উত্তাল। ২ দিন অপেক্ষার পর নৌকা ও দড়ির সাহায্যে জার্মান ডুবোজাহাজ ইউ১৮০ থেকে জাপানি ডুবোজাহাজে গিয়ে পৌঁছোন নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু ও আবিদ হাসান। মৃত্যুর মুখেও অবিচল শান্ত ছিলেন দুজনেই। জাপানিরা স্বাগত জানান নেতাজীদের। ক্যাপ্টেন তেরাওকা নিজের ঘর নেতাজীকে ছেড়ে দেন।