চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: প্রিয়জনকে পাশে নিয়ে ২ চাকা বা ৪ চাকার গাড়িতে করে যাওয়ার সময় আপনি হয়ত গুনগুন করে গেয়ে উঠেছেন, ‘এই পথ যদি না শেষ হয় তবে কেমন হত তুমি বলো তো……’ বাস্তবেই ভারতে তৈরি হয়েছে এক সুরেলা পথ বা মিউজিক্যাল রোড। ভারতের মধ্যে প্রথম বার মুম্বইয়ের ছত্রপতি শম্ভাজী মহারাজ কোস্টাল রোড তৈরি করা হয়েছে মিউজিক্যাল রোড হিসাবে। কোস্টাল রোড টানেল ছেড়ে বেরিয়ে নরিম্যান পয়েন্ট থেকে ওরলি যাওয়ার মধ্যে পড়ে এই মুম্বই কোস্টাল রোড। যার পোশাকি নাম ধরমভীর ছত্রপতি শম্ভাজী মহারাজ কোস্টাল রোড। আরব সাগরের গা ঘেঁষে থাকা এই রাজপথের ৫০০ মিটার পথ মিউজিক্যাল রোড হিসাবে গড়ে তোলা হয়েছে। গাড়ি এই রাস্তা দিয়ে চললেই বাজতে থাকবে গান। প্রথমে লো ভাইব্রেশনে, তারপর চেনা ছন্দে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বাজতে শুরু করবে স্লামগগ মিলিয়নেয়ার সিনেমায়।
এ আর রহমান সুরারোপিত অস্কার পুরস্কারজয়ী ‘জয় হো’ গান। গাড়ির স্টিরিও থেকে নয় রাস্তা থেকে বাজবে গান। ঘণ্টায় ৬০-৮০ কিমি গতিতে যানবাহন চললেই নির্দিষ্ট ৫০০ মিটার জায়গায় বেজে উঠবে গান। বৃহণ্মুম্বই পুর নিগম এই রাজপথের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে। গত ১১ ফেব্রুয়ারি দেশের প্রথম মিউজিক্যাল রোডের উদ্বোধন করেন মহারাষ্ট্রর মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ ও উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্দে। কোস্টাল রোড সুড়ঙ্গের মধ্যে নির্দিষ্ট দূরত্বে চালকদের সজাগ করে দিতে সাইনবোর্ড রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে কত গতিতে গাড়ি চালালে শোনা যাবে রাস্তা থেকে গান। হাঙ্গেরিতে এরকম মিউজিক্যাল রোড বা সুরেলা পথ রয়েছে। তাই হাঙ্গেরির প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে এই মিউজিক্যাল রোড তৈরি করতে। নির্দিষ্ট গভীরতায় কনক্রিটের রাস্তার অ্যাসফাল্ট সরিয়ে বিশেষ ভাবে ডিজাইন করা রাম্বল স্ট্রিপ বসানো হয়েছে। গাড়ির জানলা বন্ধ থাকলেও নির্দিষ্ট গতিতে গাড়ি চললে বাজবে ‘জয় হো’। রাস্তার রিজে যেখানে রাম্বল স্ট্রিপ বসানো হয়েছে তার ওপর দিয়ে গাড়ি গেলেই ভাইব্রেশন তৈরি হবে যা থেকে বেজে উঠবে গান। গাড়ি আস্তে গেলে সুরের নোট বিস্তৃত হয়ে অদ্ভুত শোনাবে গান। দ্রুত গতিতে গাড়ি গেলেও বিকৃত হবে গান।
ভারতের প্রথম মিউজিক্যাল রোড বা সুরেলা পথ তৈরি হয়েছে বাণিজ্যনগরী মুম্বইয়ে। তবে গোটা বিশ্বে প্রথম মিউজিক্যাল রোড তৈরি হয় ১৯৯৫ সালে ডেনমার্কে। সেই সুরেলা রাস্তার নাম হল ‘Asphaltophone’। শিল্পীদ্বয় স্টিন ক্রারুপ জেনসেন ও জেকব ফ্রড ম্যাগনাস মিলে তৈরি করেন অভিনব সুরেলা পথ। জাপানেও ২০০৭ সাল থেকে এই মিউজিক্যাল রোডের ধারণা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। জাপানেও ইঞ্জিনিয়ার শিজু শিনোদা আবিষ্কার করেন নির্দিষ্ট গভীরতায় রাস্তা কেটে অ্যাসফাল্ট রাম্বল স্ট্রিপ বসালেই গাড়ির চাকা নির্দিষ্ট গতিতে গড়ালেই বেজে উঠবে জাপানি লোকসঙ্গীতের সুর। জাপানে গুনমা ও হোক্কাইডোতে একাধিক এরকম মেলোডি রোড আছে।
ইউরোপের দেশ হাঙ্গেরির মের্নইয়েতে রুট ৬৭ রাস্তায় নির্দিষ্ট গতিতে গাড়ি চললে বেজে ওঠে রিপাবলিক ব্যান্ডের রক গান। দক্ষিণ কোরিয়ার আনিয়াঙে ‘সিঙ্গিং রোড’ বা সুরেলা পথ রয়েছে। সেখানে গাড়ি চালকদের সজাগ করে রাখতে বাজানো হয় নার্সারি রাইমের সুর। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে ফুজাইরাহতে শেখ খলিফা স্ট্রিটে আবার গাড়ি চললে বেজে ওঠে বিঠোফেনের Ode to Joy এর সুর।