চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: প্রেমে পড়া নিয়ে আমাদের হাজারো জল্পনা-কল্পনা থাকলেও বিজ্ঞানের চোখে এটি নিছকই কিছু রাসায়নিকের খেলা। প্রেমে পড়লে কেন মানুষের যুক্তিবোধ কমে যায় কিংবা কেন সারাক্ষণ প্রিয় মানুষের মুখটিই চোখের সামনে ভাসে, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। মানুষের অনুভূতিগুলো আসলে শরীরের হরমোনের ওঠা-নামার ওপর নির্ভর করে।সাধারণত প্রেমে পড়লে আমাদের মস্তিষ্কে ডোপামিন নামক এক ধরনের হরমোন নিঃসৃত হয়, যাকে বিজ্ঞানীরা বলেন ‘ফিল-গুড’ হরমোন। এটি রক্তে মিশে গেলেই মন ফুরফুরে হয়ে ওঠে এবং শরীরে এক ধরনের বাড়তি এনার্জি অনুভূত হয়। এই হরমোনের কারণেই মানুষ অকারণে হাসে এবং নিজেকে পৃথিবীর সবথেকে সুখী মানুষ বলে মনে করতে থাকে।
তবে শুধু ডোপামিন নয়, প্রিয় মানুষকে সামনে দেখলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া বা হাত-পা ঘামার পেছনে কাজ করে নরআড্রিনালিন নামক এক রাসায়নিক। এটি শরীরে এক ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি করে যা রোমান্টিক অনুভূতিগুলোকে আরও বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে, প্রেমে পড়লে মস্তিষ্কে সেরোটোনিন হরমোনের মাত্রা কিছুটা কমে যায়। এই হরমোনের কাজ হলো মানুষকে শান্ত রাখা। এর মাত্রা কমে গেলেই জন্ম নেয় ‘অবসেশন’ বা আচ্ছন্ন ভাব, যার ফলে মানুষ সারাক্ষণ শুধু তার সঙ্গীর কথাই ভাবতে থাকে।
প্রেমে পড়লে মানুষের বিচার-বুদ্ধি কেন লোপ পায়, তারও একটি বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানান, এই সময়ে আমাদের মস্তিষ্কের প্রিফ্রন্টাল করটেক্স অংশটি অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। এই অংশটিই মূলত আমাদের যুক্তি দিয়ে বিচার করতে সাহায্য করে। এই অংশটি সঠিকভাবে কাজ না করার কারণেই সঙ্গীর দোষগুলো বা ‘রেড ফ্ল্যাগ’গুলো আমাদের চোখে পড়ে না। অর্থাৎ, মানুষ যখন প্রেমের আবেগে অন্ধ হয়, তখন আসলে তার মস্তিষ্ক যুক্তি দেওয়ার ক্ষমতা সাময়িকভাবে হারিয়ে ফেলে।