চিত্র: প্রতীকী
Bangla Jago Desk: শুরু হয়ে গেছে ভালবাসার সপ্তাহ। ভালবাসার মানুষরা তাঁদের প্রিয়জনের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের জন্য বিভিন্ন দিন উদযাপন করছে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রেমে পড়লে শারীরিকের পাশাপাশি মানসিক ভাবেরও পরিবর্তন ঘটে। প্রেমে পড়লে সেরোটোনিন, ডোপামিন, অক্সিটোসিন আর কর্টিসল হরমোনের নিঃসরণ বাড়ে। প্রেমে পড়লে মস্তিষ্কের বিভিন্ন জায়গা সক্রিয় হয়ে ওঠে যা হার্টকে স্টিমিউলেট করে। হার্ট নয় আসলে মস্তিষ্ক প্রেমে পড়ে (Kiss Day)।
প্রেমের সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হল চুমু বা কিস। চুমুর মাধ্যমে বোঝা যায় প্রেমিক যুগলের মধ্যে সততা, বিশ্বস্ততা। যে কোনও আবেগ ঠিকমতো ভাবে প্রকাশ করতে আপামর বাঙালির যিনি শেষ আশ্রয় সেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অনেক আগেই চুম্বন কবিতায় বলেছেন—“দুইটি তরঙ্গে উঠি প্রেমের নিয়মে/ভাঙিয়া মিলিয়া যায় দুইটি অধরে/প্রেম লিখিতেছে যে গান/কোমল আদরে অধরেতে থরে চুম্বনের লেখা।”
প্রেমের সম্পর্কে অজস্র কথা যা প্রকাশ করতে পারে না তা সহজ ভাবে বুঝিয়ে দিতে পারে একটি আলতো চুমু। প্রেমের সপ্তাহ বা ভ্যালেন্টাইন উইকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন হল কিস ডে বা চুম্বন দিবস। প্রতি বছর ১৩ ফেব্রুয়ারি মহাসমারোহে পালন করা হয় কিস ডে বা চুম্বন দিবস। গবেষণায় দেখা গেছে, চুমুর মাধ্যমে অক্সিটোসিন, সেরোটোনিন আর ডোপামিন নামক ফিল গুড হরমোনের নিঃসরণ হয় যা মনকে চাঙ্গা রাখে, উৎফুল্ল করে, বন্ধন দৃঢ় করে। স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের নিঃসরণ কমায় চুমু (Kiss Day)।
আবার চুমু খেলে অক্সিটোসিন হরমোনের নিঃসরণ বাড়ে যা একদিকে যেমন সম্পর্ককে মজবুত ও দৃঢ় করে তোলে তেমনই মনের আত্মতুষ্টি ও আত্মতৃপ্তি বাড়ায়। যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ক্ষেত্রে। চুমু স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের নিঃসরণ কমায়। আত্মবিশ্বাস জোগায়। নিজের গুরুত্ব অনুভব করায়। ২০১৬ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে এমনই তথ্য। অক্সিটোসিন হরমোন মনের উদ্বেগ ও অবসাদ দূর করে। তাই চুমু উদ্বেগ কমায়, রিল্যাক্স করতে সাহায্য করে।
চুমু রক্তনালিকে নরম করে। রক্তচাপ স্বাভাবিক করে। মাথার যন্ত্রণা কমায়। স্ট্রেস থেকে মাথার যন্ত্রণা হয়। ২০১৪ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে চুমু খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। ২০০৯ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, চুমু খেলে প্রেমিক যুগলের টোটাল সেরাম কোলেস্টেরল মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। ক্রনিক রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে চুমু। চুমু খেলে মুখের ফেশিয়াল মাসল বা পেশি মজবুত হয়। স্যালাইভা বা জিভের লালা তৈরিতে সাহায্য করে চুমু দাঁতে ক্যাভিটিজ হওয়া রোধ করে (Kiss Day)।
পার্সোনালিটি অ্যান্ড সোশ্যাল সাইকোলজি জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রেমে পড়লে মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়ে। একে অপরের পছন্দকে ভাল লাগতে শুরু করে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ মেডিসিনের গবেষণায় দেখা গেছে, কোকেন ড্রাগের মতো শারীরিক যন্ত্রণা কমায় ভালবাসা। প্রিয়জনের ছবি দেখেই শারীরিক কষ্ট ভুলে থাকা যায়। স্ট্রেস লেভেল কমে। প্রেমে পড়লে খিদে কমে যায়। একে অপরকে জড়িয়ে ধরলে অক্সিটোসিন হরমোনের নিঃসরণ হয় যা আমাদের ভাল থাকতে সাহায্য করে (Kiss Day)।