চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: মদ যত পুরোনো হয় তার গুণমান তত বাড়ে, এই প্রচলিত ধারণাটি সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং আবগারি বিশেষজ্ঞদের মতে মদেরও নির্দিষ্ট মেয়াদ বা এক্সপায়ারি ডেট থাকে। বিশেষ করে বোতলের সিল খোলার পর সেটির আয়ু দ্রুত কমতে শুরু করে। মেয়াদ উত্তীর্ণ পানীয় শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক হতে পারে। মূলত অ্যালকোহলের ধরন, তৈরির পদ্ধতি এবং এতে থাকা চিনি ও অ্যালকোহলের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে এটি কতদিন ভালো থাকবে।হুইস্কির ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদের উল্লেখ না থাকলেও এর সংরক্ষণ পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত তাপমাত্রা বা সরাসরি আলোর সংস্পর্শে এলে হুইস্কি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। বিশেষ করে বোতলের ছিপি বারবার খোলা হলে এক বছরের মধ্যেই এর আসল স্বাদ ও গন্ধ হারিয়ে যেতে পারে। তাই হুইস্কি দীর্ঘদিন ভালো রাখতে অন্ধকার ও ঠান্ডা জায়গায় রাখা জরুরি।
ওয়াইন প্রেমীদের জন্য সতর্কতা হলো, একবার বোতল খুলে ফেললে সেটি ছয় থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে শেষ করা উচিত। সিল খোলার পর ওয়াইন ফ্রিজে রাখা যেতে পারে, তবে বেশিদিন ফেলে রাখলে এর গুণমান বজায় থাকে না। অন্যদিকে রামের বোতল না খোলা পর্যন্ত তা বহু বছর ভালো থাকে। কিন্তু একবার মুখ খুলে ফেললে শুরু হয় অক্সিডেশন প্রক্রিয়া। এতে পানীয়টির স্বাদ ও সুগন্ধ দুই-ই বদলে যায়। মুখ শক্ত করে আটকে রাখলে বড়জোর সাত থেকে দশ দিন পর্যন্ত এটি পানের যোগ্য থাকে। ভদকার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। এর অক্সিডেশন প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতির হওয়ায় বোতলের মুখ খোলার পরও এটি দ্রুত নষ্ট হয় না। যদি ভদকা ঠান্ডা ও অন্ধকার জায়গায় সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা যায়, তবে তা বছরের পর বছর সতেজ থাকে।
সবশেষে আসা যাক বিয়ারের প্রসঙ্গে। তালিকার অন্যান্য পানীয়ের তুলনায় বিয়ারের আয়ু সবচেয়ে কম। একবার বিয়ারের বোতলের মুখ খুলে ফেললে দুই একদিনের মধ্যেই তা পান করে নেওয়া বাঞ্ছনীয়। অন্যথায় বিয়ারের মূল আকর্ষণ অর্থাৎ এর ঝাঁজ বা কার্বনেশন সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। তাই শৌখিন মদ্যপায়ীদের উচিত মদের ধরন বুঝে তা সঠিক সময়ে ব্যবহার করা।