ad
ad

Breaking News

Workplace Balance

সফল হতে কি শুধুই হাড়ভাঙা খাটুনি? ‘লেজি গার্ল জবস’ ট্রেন্ডে মজেছে ভারতের তরুণ প্রজন্ম

ক্রমাগত চাপের ফলে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছিলেন এবং নিজের বা পরিবারের জন্য সময় বের করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

workplace-balance-lazy-girl-jobs-trend-gen-z-work-life-priorities

চিত্র- সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: বর্তমান সময়ে কাজ এবং ক্যারিয়ার নিয়ে যুবসমাজের চিন্তাভাবনায় এক আমূল পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। আগে মনে করা হতো সাফল্য পেতে হলে হাড়ভাঙা খাটুনি, দীর্ঘক্ষণ কাজ এবং সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু আধুনিক প্রজন্মের অনেকেই এখন এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় অত্যন্ত জনপ্রিয় হওয়া ‘লেজি গার্ল জবস’ (Lazy Girl Jobs) ট্রেন্ডটি আসলে প্রমাণ করছে যে, সাফল্য মানেই কেবল অতিরিক্ত পরিশ্রম নয়। তরুণ প্রজন্মের পেশাদাররা এখন নমনীয় কাজের সময়, সহনশীল ওয়ার্কলোড এবং উন্নত কর্মজীবনের ভারসাম্য বা ‘ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্স’-কে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তাঁদের মতে, কম মানসিক চাপ নিয়ে গুছিয়ে কাজ করলেও সমানভাবে সফল হওয়া সম্ভব।

গুরুগ্রামের ২৬ বছর বয়সী মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ রিয়ার জীবন এই পরিবর্তনের একটি বড় উদাহরণ। এক বছর আগেও তিনি একটি নামী কনসাল্টিং সংস্থায় অত্যন্ত চাপপূর্ণ কাজ করতেন, যেখানে গভীর রাত পর্যন্ত ইমেল চেক করা বা অফিসের কাজে ডুবে থাকা ছিল রুটিন। ক্রমাগত চাপের ফলে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছিলেন এবং নিজের বা পরিবারের জন্য সময় বের করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু এখন তিনি এমন একটি চাকরিতে যোগ দিয়েছেন যেখানে বেতন স্থিতিশীল, কাজের সময় নির্দিষ্ট এবং কাজ শেষে নিজের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়। বিকেল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে ল্যাপটপ বন্ধ করে তিনি অনায়াসেই যোগা ক্লাসে যেতে পারেন। এই ধরনের জীবনযাত্রাই এখনকার অনেক তরুণ-তরুণীর কাম্য, যেখানে ক্যারিয়ারের জন্য ব্যক্তিগত জীবনকে বিসর্জন দিতে হয় না।

‘লেজি গার্ল জবস’ শব্দবন্ধটি শুনতে কিছুটা নেতিবাচক মনে হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন এটি আসলে একটি পরিবর্তিত বিশ্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। এর অর্থ এই নয় যে কর্মীরা কাজ ফাঁকি দিতে চান; বরং তাঁরা এমন একটি পেশা চান যেখানে স্মার্টলি কাজ শেষ করে ব্যক্তিগত জীবনের জন্য সময় রাখা যায়। গ্যালপ-এর ‘স্টেট অফ দ্য গ্লোবাল ওয়ার্কপ্লেস’ রিপোর্ট বলছে, বিশ্বের প্রায় ৭৬ শতাংশ কর্মচারী মাঝেমধ্যে এবং ২৮ শতাংশ কর্মচারী সবসময় কাজের চাপে মানসিক দুশ্চিন্তায় ভোগেন। অতিরিক্ত মানসিক চাপের ফলে কর্মীদের অসুস্থ হয়ে পড়ার প্রবণতা ৬৩ শতাংশ বেড়ে যায় এবং তাঁরা দ্রুত চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবেন।

ডেলয়েট-এর গ্লোবাল জেন জি (Gen Z) এবং মিলেনিয়াল সার্ভে অনুযায়ী, ৪৪টি দেশের ২২,০০০-এর বেশি অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ৪৬ শতাংশ জেন জি কর্মী জানিয়েছেন যে তাঁরা কাজের চাপে প্রায়ই উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তা অনুভব করেন। ভারতের ক্ষেত্রেও এই চিত্রটি আলাদা নয়। ভারতীয় তরুণ কর্মীরা এখন আর্থিক স্থিতিশীলতা ও চাকরির নিরাপত্তার পাশাপাশি নিজেদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং খুশিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। অতিরিক্ত পরিশ্রমের বদলে তাঁরা এখন সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনকেই প্রকৃত সাফল্যের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করছেন।