চিত্র: সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন মহাযুটি জোট একটি নির্ধারক বিজয় অর্জন করেছে। এই জোটে অন্তর্ভুক্ত ছিল বিজেপি, একনাথ শিন্ডের শিবসেনা এবং অজিত পাওয়ারের এনসিপি গোষ্ঠী। তারা কংগ্রেস, শরদ পাওয়ারের এনসিপি এবং উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা (ইউবিটি) নিয়ে গঠিত মহা বিকাশ আগাড়ি (এমভিএ) জোটকে কার্যত পরাস্ত করেছে।
মহাযুতির জয়ের পেছনের পাঁচটি প্রধান কারণ:
১. মহিলাদের সমর্থন
অজিত পাওয়ারের গোলাপি-থিমযুক্ত প্রচার নারীদের মধ্যে বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়েছে। এই প্রচারে নিরাপত্তা, শিক্ষা এবং নারীদের কল্যাণমূলক বিভিন্ন প্রকল্পকে তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নারী-কেন্দ্রিক নীতিগুলোর ওপর জোর দেওয়া এই প্রচারকে আরো শক্তিশালী করেছে।
এই নির্বাচনে মহিলাদের ভোটার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে। ২০১৯ সালের তুলনায় ৫৩ লাখ বেশি নারী ভোট দিয়েছেন, যা ভোটদানে ছয় শতাংশ বৃদ্ধি ঘটিয়েছে। মহাযুটি তাদের ‘লাড়কি বেহন যোজনা’র মাধ্যমে এই ভোটারদের আকৃষ্ট করতে পেরেছে, যার আওতায় ২.৫ কোটিরও বেশি নারীকে প্রতিটি ১,৫০০ টাকা পাঁচটি কিস্তিতে প্রদান করা হয়। নির্বাচনের আগে এই পরিমাণ বাড়িয়ে ২,১০০ টাকা করার প্রতিশ্রুতি নারীদের মধ্যে বিশেষভাবে সাড়া ফেলেছে।
অন্যদিকে, এমভিএ তাদের ৩,০০০ টাকার প্রতিশ্রুতিতে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হয়েছে। অজিত পাওয়ার এই জয়কে নারীদের সমর্থনের ফলাফল বলে উল্লেখ করেছেন।
Maharashtra Chooses Pink 🙏🏻#MaharashtraElectionResult pic.twitter.com/0LqcGWwh3A
— Ajit Pawar (@AjitPawarSpeaks) November 23, 2024
২. কৃষক ও গ্রামীণ ভোট
কংগ্রেস বিদর্ভে কৃষি সংকটের ওপর জোর দিয়ে তাদের সমর্থন ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও, মহাযুটি দীর্ঘমেয়াদি কৃষি সংস্কার এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছে।
বিজেপি তুলা এবং সয়াবিন ফসলের ন্যূনতম সমর্থন মূল্য (এমএসপি)-এর উপরে ফসল ক্রয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এর ফলে মহাযুটি সরকার পুনরায় কৃষকদের সমর্থন লাভ করেছে।
৩. ‘ওবিসি সেফ হ্যায়’ স্লোগান
ওবিসি ভোট কৌশলগতভাবে নিজেদের পক্ষে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্লোগান “এক হ্যায় তো সেফ হ্যায়” অত্যন্ত কার্যকর হয়েছে। এই স্লোগান এমভিএর সমালোচনার মুখে পড়লেও ভোটারদের মধ্যে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
एक है तो ‘सेफ’ है !
मोदी है तो मुमकिन हैं ! #Maharashtra #महाराष्ट्र— Devendra Fadnavis (@Dev_Fadnavis) November 23, 2024
৪. বিদর্ভের ফ্লিপ
বিদর্ভকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস তাদের শক্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বিজেপির দীর্ঘমেয়াদি গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্প এবং কৃষকদের কাছে সরাসরি পৌঁছানোর প্রচেষ্টা বিদর্ভে কংগ্রেসের প্রভাব প্রায় সম্পূর্ণরূপে মুছে ফেলেছে।
एक है तो ‘सेफ’ है !
मोदी है तो मुमकिन हैं ! #Maharashtra #महाराष्ट्र— Devendra Fadnavis (@Dev_Fadnavis) November 23, 2024
৫. শরদ পাওয়ারের প্রভাবের পতন এবং রাহুল গান্ধীর ভুল
শরদ পাওয়ারের প্রভাব, যা মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এনসিপি-র বিভাজন এবং অজিত পাওয়ারের বিজেপির সাথে জোট মহা বিকাশ আগাড়ি জোটকে দুর্বল করেছে।
উপরন্তু, রাহুল গান্ধীর বেফাঁস মন্তব্য এবং এমভিএ জোটের অভ্যন্তরীণ সংঘাত মহাযুটির বিজয়কে আরও সহজ করেছে।
মহাযুটির এই বিজয় শুধু রাজনৈতিক নয়, তাদের সুপরিকল্পিত কৌশল এবং বিভিন্ন শ্রেণির ভোটারদের সাথে সংযোগ স্থাপনের ক্ষমতার প্রতিফলন। অন্যদিকে, মহা বিকাশ আগাড়ি জোট একটি গভীর সংকটে পড়েছে। মহারাষ্ট্রের এই নির্বাচনের ফলাফল আগামী ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।