ad
ad

Breaking News

Uttar Pradesh

সংবাদ করার ‘অপরাধে’ বিষপান! পিলিভিতে স্বস্ত্রীক আত্মহত্যার চেষ্টা

ইসরারের ভাই জানান, ‘ দাদার রিপোর্ট প্রকাশের পর থেকেই তাঁকে নিশানা করা হচ্ছিল। স্পষ্ট হুমকি দেওয়া হয়েছিল, প্রতিবেদন তুলে না নিলে তার ফল ভালো হবে না। এই কারণেই দাদা ও বৌদি এই চরম সিদ্ধান্ত নেন।’

Wife attempts suicide in Pilivi after consuming poison for 'crime' of reporting news

চিত্র: প্রতীকী

Bangla Jago Desk: উত্তরপ্রদেশের পিলিভিত জেলায় সংবাদ করার কারণে প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হয়ে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন এক সাংবাদিক ও তাঁর স্ত্রী। বিষপানের ঠিক আগে তাঁরা একটি ভিডিও রেকর্ড করেন, যেখানে স্পষ্টভাবে জেলার এক সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট (এসডিম) এবং এক নগর পঞ্চায়েত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। বর্তমানে ওই সাংবাদিক ও তাঁর স্ত্রী জেলা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন, এবং চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। সাংবাদিকের নাম ইসরার।

ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, পিলিভিত জেলার বিসালপুর এলাকার একটি নাগরিক উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি তিনি সংবাদ মাধ্যমে তুলে ধরেন। বিশেষ করে সস্তা ও দুর্বল মানের হলুদ ইট ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন তিনি। এই প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই এসডিম নগেন্দ্র পাণ্ডে এবং বরখেরা নগর পঞ্চায়েতের চেয়ারম্যান শ্যাম বিহারী ভোজপাল তাঁকে চাপ দেওয়া শুরু করেন ও নানা ভাবে হয়রানি করেন বলে অভিযোগ।

ভিডিওতে ইসরার আরও বলেন, গত ১৯ মে তাঁর নামে এক ঠিকাদারের মাধ্যমে একটি মিথ্যা তোলাবাজির মামলা রুজু করা হয়। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনের সঙ্গে মিলেই এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এসডিম-এর বিরুদ্ধে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগও তোলেন তিনি। বারবার প্রশাসনিক চাপ, হুমকি এবং অপমান সহ্য করতে না পেরে অবশেষে আত্মঘাতী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। ইসরারের ভাই জানান, ‘ দাদার রিপোর্ট প্রকাশের পর থেকেই তাঁকে নিশানা করা হচ্ছিল। স্পষ্ট হুমকি দেওয়া হয়েছিল, প্রতিবেদন তুলে না নিলে তার ফল ভালো হবে না। এই কারণেই দাদা ও বৌদি এই চরম সিদ্ধান্ত নেন।’ জেলাশাসক জানিয়েছেন, ‘ এক দম্পতি বিষাক্ত পদার্থ সেবন করেছেন এবং নির্দিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

এই ঘটনার পর পিলিভিতের প্রশাসনের বিরুদ্ধে ছড়িয়েছে ক্ষোভ। স্থানীয় সাংবাদিক মহল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলি অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সাংবাদিক ইসরারের পরিবারও প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চেয়ে পুলিশের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। সেইসঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল এই ঘটনা। গোটা রাজ্যজুড়ে ক্ষোভের সুর চড়ছে।