চিত্র - সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ২০২৬ সালের শুরুতে তেহরানে মার্কিন হামলা বিশ্বরাজনীতিতে কম্পন ধরিয়ে দিয়েছে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে ধ্বংস করতেই ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চরম পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন। কিন্তু বিশ্বজুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন- ইরান বা উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলোকে আমেরিকা ‘টার্গেট’ করলেও, ভারতের পরমাণু শক্তি নিয়ে ওয়াশিংটন কেন কখনও এতটা আগ্রাসী হয়নি? এমনকি ১৯৭৪ বা ১৯৯৮ সালের পরমাণু পরীক্ষার পরও কেন ভারত আক্রান্ত হয়নি? এর নেপথ্যে রয়েছে ভারতের অত্যন্ত সুশৃঙ্খল পরমাণু নীতি এবং বিশ্বরাজনীতিতে দিল্লির শক্তিশালী অবস্থান।
ভারতের পরমাণু কর্মসূচির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন ডক্টর হোমি ভাবা। ভারতের বিশাল থোরিয়াম ভাণ্ডারকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়াই ছিল এই ‘থ্রি-স্টেজ’ পরিকল্পনার লক্ষ্য। ২০২৬ সালের ৬ এপ্রিল তামিলনাড়ুর কালপাক্কামে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তির ৫০০ মেগাওয়াট প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর (PFBR) প্রথমবার সচল হওয়ার মাধ্যমে ভারত এই পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে সফলভাবে প্রবেশ করেছে। বর্তমানে ভারতের হাতে প্রায় ১৯০টি পরমাণু অস্ত্র রয়েছে এবং অগ্নি-৫-এর মতো শক্তিশালী মিসাইল দিয়ে আকাশ, জল ও স্থল- তিন পথেই প্রত্যাঘাত হানার ক্ষমতা রাখে দিল্লি।
আমেরিকা ভারতকে আক্রমণ না করার অন্যতম প্রধান কারণ হল ভারতের শক্তিশালী গণতন্ত্র এবং স্বচ্ছ ইমেজ। ইরানকে ‘রুগ স্টেট’ বা খামখেয়ালি দেশ হিসেবে দেখা হলেও, ভারতকে সবসময়ই একটি স্থিতিশীল ও দায়িত্বশীল শক্তি হিসেবে গণ্য করেছে ওয়াশিংটন। এছাড়া, ১৯৭৪ ও ১৯৯৮ সালের পরমাণু পরীক্ষার খবর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আগাম টের পায়নি। যখন জানতে পেরেছে, ততক্ষণে ভারত সফলভাবে পরীক্ষা সেরে ফেলেছে। ফলে ‘প্রি-এম্পটিভ স্ট্রাইক’ বা হামলার কোনও সুযোগই ছিল না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের বিশাল সেনাবাহিনী এবং পরমাণু ত্রিভুজ (Nuclear Triad) আমেরিকার জন্য বড়সড় যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করত, যা ওয়াশিংটন কখনও চায়নি।
অন্যদিকে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে ঘিরে আমেরিকার চিরকালই ঘোর আপত্তি। তেহরান দাবি করে তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, “ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি একটি একতরফা বিষয় ছিল, যা কেবল ওদের পরমাণু বোমা তৈরির পথকে দীর্ঘায়িত করেছে, বন্ধ করেনি।” ট্রাম্পের অভিযোগ, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে গোপনে মারণাস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছে। যার জেরে ২০২৬-এর শুরুতে ইজরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের পরমাণু ও সামরিক পরিকাঠামোয় বিধ্বংসী বিমান হামলা চালায় মার্কিন ফৌজ। ভারতের ক্ষেত্রে যেখানে আমেরিকা ২০০৫ সালে ‘অসামরিক পরমাণু চুক্তি’ সই করে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়েছিল, ইরানের ক্ষেত্রে সেই পথই আজ যুদ্ধের বিভীষিকা ডেকে এনেছে।