চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: বিখ্যাত শিল্পাচার্য নন্দলাল বসুর উত্তরসূরিদের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার ঘটনাটি এবার দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়াল। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর (SIR) মামলার শুনানির সময় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্নেহধন্য এই শিল্পীর নাতি ও নাতবউয়ের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচন কমিশনকে নন্দলাল বসুর নাতির করা আপিল প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে।
ঘটনাটি শান্তিনিকেতনের। শিল্পী নন্দলাল বসুর ছোট মেয়ে যমুনা সেনের ছেলে ৮৮ বছর বয়সী সুপ্রবুদ্ধ সেন তাঁর স্ত্রী দীপা সেনের সঙ্গে ১৯৯৬ সাল থেকে স্থায়ীভাবে শান্তিনিকেতনে বসবাস করছেন। ১৯৫৪ সালে পাঠভবন থেকে মাধ্যমিক পাশ করা সুপ্রবুদ্ধবাবু ডিভিসিতে দীর্ঘ ৩২ বছর চাকরি করেছেন এবং জীবনের প্রতিটি নির্বাচনেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক খসড়া ভোটার তালিকায় দেখা যায়, তাঁর, তাঁর স্ত্রীর এবং তাঁদের দীর্ঘদিনের পরিচারক চক্রধর নায়কের নাম ‘বিবেচনাধীন’ (Under Adjudication) তালিকায় রয়েছে। পরবর্তীতে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশিত হলে জানা যায়, তাঁদের নাম চূড়ান্তভাবে বাদ পড়ে গিয়েছে।
ভারতের সংবিধানের মূল পাণ্ডুলিপির অলঙ্করণকারী শিল্পীর পরিবারের সদস্যদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এই ঘটনায় বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে একযোগে আক্রমণ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন এবং স্থানীয় কাউন্সিলর চন্দন মণ্ডলকে তাঁদের বাড়িতে পাঠিয়ে সবরকম প্রশাসনিক ও আইনি সাহায্যের নির্দেশ দিয়েছেন।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় আইনজীবীরা এই বিষয়টি উত্থাপন করলে আদালত নির্বাচন কমিশনকে কড়া নির্দেশ দেয়। কমিশন আদালতকে জানিয়েছে যে, ডিজিটাল স্বাক্ষরের (E-signature) কাজ প্রায় শেষের পথে। এরপরই শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, সোমবার রাতের মধ্যেই ভোটারদের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৩ এপ্রিল ধার্য করা হয়েছে। নির্বাচনের মুখে নন্দলাল বসুর পরিবারের মতো বিশিষ্ট নাগরিকদের নাম বাদ পড়ার ঘটনাটি ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল।