ad
ad

Breaking News

Thalapathy Vijay

রাজ্যসভার আসন কংগ্রেসকে ছাড়লেন বিজয়, জোরদার হল টিভিকে-কংগ্রেস জোট

সম্প্রতি কংগ্রেসের তামিলনাড়ু-দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা গিরিশ চোডানকর এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

vijay-tvk-backs-congress-tamil-nadu-rajya-sabha-seat

চিত্রঃ সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: জোটসঙ্গী কংগ্রেসের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে বড়সড় পদক্ষেপ করলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তথা টিভিকে (তামিঝাগা ভেত্রি কাঝাগম)-র প্রতিষ্ঠাতা থলপতি বিজয়। রাজ্যসভায় তামিলনাড়ুর শূন্য হওয়া একমাত্র আসনে নিজের দলের প্রার্থী না দিয়ে কংগ্রেসকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক মহলে এই পদক্ষেপকে টিভিকে-কংগ্রেস জোটের ভবিষ্যৎ আরও সুদৃঢ় করার কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

আগামী ১৮ জুন তামিলনাড়ুর একটি রাজ্যসভা আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এআইএডিএমকের নেতা সি ভি শানমুগম বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর রাজ্যসভার সদস্যপদ ছেড়ে দেওয়ায় আসনটি শূন্য হয়। সংখ্যার নিরিখে চাইলে এই আসনে নিজেদের প্রার্থী দাঁড় করিয়ে প্রথমবারের মতো সংসদের উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে পারত টিভিকে। কিন্তু সেই সুযোগ হাতছাড়া করে জোটসঙ্গী কংগ্রেসের জন্য আসনটি ছেড়ে দিলেন বিজয়।

সূত্রের খবর, সম্প্রতি কংগ্রেসের তামিলনাড়ু-দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা গিরিশ চোডানকর এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, কংগ্রেসের সম্ভাব্য প্রার্থী হতে পারেন দলের কৌশলবিদ প্রবীণ চক্রবর্তী। টিভিকে-কংগ্রেস জোট গঠনের অন্যতম স্থপতি হিসেবেই পরিচিত তিনি। কংগ্রেস নেতারা বিজয়ের এই সিদ্ধান্তকে ‘উদার ও দূরদর্শী রাজনৈতিক পদক্ষেপ’ বলে বর্ণনা করেছেন। কংগ্রেস সাংসদ জ্যোতিমণি বলেন, এই অতিরিক্ত আসন রাজ্যসভায় বিজেপির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করবে।

উল্লেখ্য, তামিলনাড়ুতে টিভিকে সরকারের স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও কংগ্রেস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে পিছিয়ে থাকা বিজয় সরকারের পাশে রয়েছে কংগ্রেসের পাঁচ বিধায়ক। ফলে দুই দলের রাজনৈতিক সমন্বয় আগামী দিনে আরও গভীর হতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সমালোচনাও শুরু হয়েছে। ডিএমকে-র মুখপাত্র এ. সারাভানন অভিযোগ করেছেন, বিজেপির বিরুদ্ধে সংসদে সরাসরি লড়াই এড়াতেই টিভিকে কংগ্রেসকে রাজ্যসভার আসন ছেড়ে দিয়েছে। তাঁর কথায়, সংসদে বিজেপির মোকাবিলার দায়িত্ব কার্যত কংগ্রেসের হাতে তুলে দিচ্ছে টিভিকে। যদিও এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বিজয়ের দল। টিভিকে-র এক শীর্ষ নেতা জানান, এটি কোনও দায়িত্ব হস্তান্তর নয়, বরং জোটকে আরও শক্তিশালী করার পদক্ষেপ। মাত্র একজন সাংসদ পেলে রাজনৈতিকভাবে বড় কোনও পরিবর্তন হতো না, কিন্তু জোটকে শক্তিশালী করলে দীর্ঘমেয়াদে তার সুফল মিলবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু বর্তমান জোটকেই শক্তিশালী করবে না, বরং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং তামিলনাড়ু, কেরল ও পুদুচেরির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এই পদক্ষেপের একটি রাজনৈতিক মূল্যও দিতে হতে পারে বিজয়কে। রাজ্যসভায় কোনও সাংসদ না থাকায় আসন্ন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র বৈঠকে টিভিকে আমন্ত্রণ নাও পেতে পারে বলে জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ, বৈঠকে অংশগ্রহণের অন্যতম শর্ত হিসেবে অন্তত একজন সাংসদের উপস্থিতির কথা বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, রাজ্যসভার একটি আসন ঘিরে বিজয়ের এই সিদ্ধান্ত তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।