ad
ad

Breaking News

POCSO Verdict

প্রেম থাকলেও শারীরিক সম্পর্কে নারীর সম্মতিই শেষ কথা, কড়া বার্তা হাইকোর্টের

বিয়ের প্রতিশ্রুতি বা পারস্পরিক সমঝোতা কোনোভাবেই ধর্ষণের মতো অপরাধকে লঘু করতে পারে না।

POCSO Verdict Gauhati High Court Says Consent Mandatory

চিত্র- সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও কোনো মহিলার সম্মতির তোয়াক্কা না করে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। সম্প্রতি একটি পকসো (POCSO) মামলার আবেদন খারিজ করতে গিয়ে এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন গুয়াহাটি হাইকোর্টের বিচারপতি প্রাঞ্জল দাস। অভিযুক্ত হামিদুর ইসলামের দায়ের করা মামলা বাতিলের আবেদন নাকচ করে দিয়ে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বিয়ের প্রতিশ্রুতি বা পারস্পরিক সমঝোতা কোনোভাবেই ধর্ষণের মতো অপরাধকে লঘু করতে পারে না।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি। এক নাবালিকার বাবা অভিযোগ করেন যে, গত ২৫ জানুয়ারি তাঁর স্ত্রীর অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে হামিদুর তাঁদের বাড়িতে ঢুকে তাঁর ১৭ বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণ করে। পুলিশি তদন্তের পর ৩০ এপ্রিল নিম্ন আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। এরপরই অভিযুক্ত হামিদুর হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে দাবি করেন, উভয় পরিবারের মধ্যে বিষয়টি মিটমাট হয়ে গিয়েছে এবং তিনি ওই তরুণীকে বিয়ে করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এমনকি নাবালিকার বাবাও একটি হলফনামা পেশ করে জানান, ছাত্র সংগঠনের চাপে পড়ে তিনি অভিযোগ করেছিলেন এবং মামলাটি তুলে নিলে তাঁর কোনো আপত্তি নেই।

আদালতে অভিযুক্তের আইনজীবী এন জে দত্ত সওয়াল করেন যে, যেহেতু দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং পরিবার বিয়ের বিষয়ে একমত হয়েছে, তাই মামলাটি খারিজ করা হোক। তবে সরকারি আইনজীবী এম পি গোস্বামী এই যুক্তির তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি আদালতের নজরে আনেন যে, ভুক্তভোগী নাবালিকা পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে স্পষ্টভাবেই ধর্ষণের কথা উল্লেখ করেছে।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি প্রাঞ্জল দাস জানান, কেবল আপস-মীমাংসা বা বিয়ের প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে পকসো আইনের মতো সংবেদনশীল মামলা খারিজ করা সম্ভব নয়। জবানবন্দিতে ধর্ষণের প্রমাণ মেলায় আদালত সাফ জানিয়ে দেয়, প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও ইচ্ছার বিরুদ্ধে সহবাস আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। ফলে অভিযুক্তের আবেদন খারিজ করে দিয়ে বিচারপ্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।