চিত্রঃ নিজস্ব গ্রাফিক্স
Bangla Jago Desk: চলতি সপ্তাহে লাল কেল্লার কাছে গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেয়েছেন। জানা গেছে, বিস্ফোরিত হুন্ডাই i20 গাড়িটির চালক উমর মোহাম্মদ, যিনি উমর নবী নামেও পরিচিত, অবৈধ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রায় ২০ লাখ টাকা পেয়েছিলেন। এই বিস্ফোরণে এখনও পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সূত্রের খবর, অভিযুক্ত উমর মোহাম্মদ হরিয়ানার নূহ এলাকার বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক নগদ টাকায় কিনেছিলেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজন হাওয়ালা ব্যবসায়ীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় লাল কেল্লার কাছে একটি পার্কিং লটে সাদা রঙের হুন্ডাই i20 গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে, এতে ২০ জন আহত হন এবং কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এই বিস্ফোরণটি ঘটেছিল জম্মু-কাশ্মীর, হরিয়ানা এবং উত্তর প্রদেশ জুড়ে এক বিস্তৃত ‘হোয়াইট কলার’ জঙ্গি মডিউলের পর্দাফাঁসের কয়েক ঘণ্টা পরেই। ওই মডিউলে জইশ-ই-মহম্মদ এবং আনসার গজওয়াত-উল-হিন্দের মতো জঙ্গি গোষ্ঠী জড়িত ছিল বলে জানা গেছে। অভিযানে তিনজন ডাক্তারসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রায় ২,৯০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, বিস্ফোরণের মূল অভিযুক্ত উমর মোহাম্মদ পুলওয়ামায় জন্মগ্রহণ করেন (১৯৮৯), এবং ফরিদাবাদের আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ডাক্তার। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ও বর্তমানে তদন্তের আওতায় রয়েছে। উমর মোহাম্মদের পাশাপাশি আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও দুই প্রাক্তন ডাক্তার—মুজাম্মিল গানাই এবং শাহীন সায়ীদ—কে গ্রেফতার করা হয়েছে। কলেজ চত্বর থেকে ৩৬০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট উদ্ধার করা হয়েছে।
ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশন এবং ন্যাশনাল অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রক লঙ্ঘনের তথ্য পাওয়ার পর ক্রাইম ব্রাঞ্চ ইউনিভার্সিটির বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে দুটি এফআইআর দায়ের করেছে। গোয়েন্দারা বিস্ফোরণের আগে পার্কিং এলাকায় ঢোকা প্রতিটি গাড়ির তালিকা তৈরি করছেন এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন। উমর মোহাম্মদ গাড়ি পার্ক করার সময় কার সঙ্গে দেখা করেছিলেন, তা খতিয়ে দেখতে তার ছবি দেখিয়ে চালক ও গাড়ি মালিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।