চিত্রঃ প্রতীকী
Bangla Jago Desk: ইন্দোরের ভয়াবহ স্মৃতি ফিরল গুজরাটে। দূষিত পানীয় জল পান করে গান্ধীনগরে কার্যত মহামারীর আকার নিয়েছে টাইফয়েড। গত পাঁচ দিনে রাজধানী শহরের ১০৪ জন বাসিন্দা এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশু ও মহিলাদের সংখ্যাই সর্বাধিক। বর্তমানে আক্রান্তরা গান্ধীনগর সিভিল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত তিন দিনে টাইফয়েড পরীক্ষা করাতে আসা রোগীদের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশেরই রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, আক্রান্তদের বড় অংশই ১৮ বছরের কম বয়সি।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ময়দানে নেমেছে প্রশাসন। গুজরাটের উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সঙ্ঘভী হাসপাতাল পরিদর্শন করে রোগীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, অসুস্থদের চিকিৎসার জন্য ২২ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও ব্যক্তিগতভাবে গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন বলে উপমুখ্যমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন। রোগীদের পরিবারের জন্য থাকা এবং খাওয়ার ব্যবস্থা প্রশাসনের পক্ষ থেকেই করা হচ্ছে।
গান্ধীনগর সিভিল হাসপাতালের সুপার মিতা পারেখ জানিয়েছেন, রোগীদের চিকিৎসা চলছে এবং বর্তমানে তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, শহরের বেশ কিছু এলাকা থেকে সংগৃহীত জলের নমুনা পরীক্ষার অযোগ্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। পাইপলাইনের জলের উৎস ঠিক কোথায় দূষিত হয়েছে, তা চিহ্নিত করতে গান্ধীনগর পুরসভার পক্ষ থেকে বিশেষ সমীক্ষা শুরু হয়েছে। নর্দমা বা শৌচালয়ের বর্জ্য কোনওভাবে পানীয় জলের লাইনে মিশে গিয়ে এই বিপত্তি ঘটিয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন পুর আধিকারিকরা।
বিপদ এড়াতে পুরসভার পক্ষ থেকে বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এলাকার প্রতিটি বাড়িতে জল ফুটিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বাড়ির জলের ট্যাঙ্ক জীবাণুমুক্ত রাখতে পুরসভার পক্ষ থেকে বাড়ি বাড়ি বিনামূল্যে ক্লোরিন ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে। ইন্দোরের ভগীরথপুরায় দূষিত জল খেয়ে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর গান্ধীনগরে এই গণসংক্রমণ দেশজুড়ে জনস্বাস্থ্য ও পানীয় জলের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।