চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের ফলাফল সোমবার ঘোষণা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ঝড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ঘাঁটি যখন প্রায় ধূলিসাৎ, তখন অসমের মাটি থেকে এল এক অপ্রত্যাশিত খবর। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বড়পেটা জেলার মান্ডিয়া কেন্দ্রে জয়ী হয়ে অসমের বিধানসভায় খাতা খুলল ঘাসফুল শিবির। যদিও ১২৬ আসনের অসম বিধানসভায় এটি একটিমাত্র জয়, তবুও তৃণমূলের জন্য এই জয় অত্যন্ত প্রতীকী এবং তাৎপর্যপূর্ণ।
কে এই শেরমান আলি?
এই জয়ের নেপথ্যে রয়েছেন তিনবারের বিধায়ক শেরমান আলি আহমেদ। তিনি কেবল একজন দক্ষ নেতা নন, বরং অসমের রাজনীতিতে এক পরিচিত মুখ। শেরমান আলির রাজনৈতিক যাত্রা বেশ ঘটনাবহুল। ২০১১ সালে এআইইউডিএফ-এর প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার বিধায়ক হন। এরপর কংগ্রেসের হয়ে দুইবার জয়ী হন। কিন্তু কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। ফেব্রুয়ারিতে তিনি রাইজোর দলে যোগ দিলেও, শেষ মুহূর্তে টিকিট না পেয়ে তৃণমূলের হাত ধরেন।
কংগ্রেসের অন্দরের সমীকরণ
সূত্রের খবর, অসমের বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা এবং ধুবড়ির সাংসদ রক্ষীবুল হুসেনের সঙ্গে শেরমান আলির দ্বন্দ্বই তাঁকে দল থেকে বের হতে বাধ্য করেছিল। রক্ষীবুল হুসেনের প্রভাব বলয়ে মান্ডিয়া আসনে কংগ্রেসের টিকিট পাননি তিনি। কিন্তু এতে দমে না গিয়ে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে তিনি নিজের মাটি আঁকড়ে থাকেন। অতীতে ‘মিঞা মিউজিয়াম’ তৈরির প্রস্তাব দিয়ে বিতর্কে জড়ানো শেরমান আলির ওপর স্থানীয় ভোটাররা আস্থা রেখেছেন তাঁর জননেতা ভাবমূর্তির কারণে।
ভবিষ্যতের ইঙ্গিত?
বিশ্লেষকদের মতে, এই জয় তৃণমূলের কাছে শুধু মান্ডিয়া জয়ের গল্প নয়, বরং দলবদলের রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের নতুন করে জমি খোঁজার ইঙ্গিত। পশ্চিমবঙ্গে বড় হারের পরেও অসমে এক বিধায়ক পাওয়া তৃণমূলের জন্য বড় প্রাপ্তি। অসমের রাজনীতিতে এই ফল ভবিষ্যতে তৃণমূলের বিস্তার কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে। তবে আপাতত, কংগ্রেসের অন্দরের কোন্দলকে কাজে লাগিয়ে শেরমান আলি আহমেদ যে নিজের জেদ ও জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিলেন, তাতে অসমের রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।