চিত্র: সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে ‘মক ড্রিল’ বা অসামরিক প্রতিরক্ষা মহড়ার ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় সরকার। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গুজরাট, পঞ্জাব, রাজস্থান এবং জম্মু ও কাশ্মীরের একাধিক জেলায় এই মহড়া অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মহড়ার মূল উদ্দেশ্য হল সম্ভাব্য যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের প্রস্তুতি বাড়ানো। এর মধ্যে থাকবে বিমান হামলার সতর্কতা সাইরেন পরীক্ষা, সিমুলেটেড ব্ল্যাকআউট, নাগরিক প্রশিক্ষণ এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাড়া দেওয়ার কৌশলগত অনুশীলন।
‘অপারেশন সিঁদুর’ চালিয়ে পাকিস্তানের ভিতরে ৯টি জঙ্গি ঘাঁটিতে সুনির্দিষ্ট হামলা চালিয়েছে ভারত। বাহাওয়ালপুর, মুরিদকে, গুলপুর, ভিমবার, চক আমরু, বাগ, কোটলি, শিয়ালকোট এবং মুজাফফরাবাদ— এই ৯টি স্থানে চালানো ওই অভিযানে জইশ-ই-মহম্মদ ও লস্কর-ই-তইবার মতো সংগঠনের ঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে। বাহাওয়ালপুরে জইশের সদর দফতর এবং মুরিদকে-তে লস্করের প্রধান ঘাঁটি ছিল বলে সূত্রের দাবি।
ভারতের এই প্রত্যাঘাতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায় পাকিস্তান। ৭ থেকে ১০ মে পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত বরাবর টানা ৪ দিন সামরিক সংঘর্ষ হয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনী ড্রোনের মাধ্যমে ভারতের সামরিক ও অসামরিক ঘাঁটিতে হামলার চেষ্টা করেছিল, তবে ভারতীয় সেনা সফলভাবে তা প্রতিহত করে। শেষমেশ, ১০ মে পাকিস্তানের অনুরোধে সংঘর্ষবিরতি কার্যকর হয়।
ভারত ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, সন্ত্রাসবাদ দমনে কোনও আপস হবে না।এদিকে, সীমান্তে যেকোনও হামলার সম্ভাবনা মাথায় রেখে ভারতীয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের ১০টি জেলায় সেনাবাহিনী কন্ট্রোল সেন্টার তৈরি করেছে, যেখান থেকে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো যাবে বলে সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে।ভারত-পাকিস্তান সংঘাত শুরুর পরই দেশের বিভিন্ন রাজ্যে মক ড্রিল হয়েছিল।
যুদ্ধ বা সঙ্কটকালীন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ কীভাবে সতর্ক ও সুরক্ষিত থাকবেন, তাই-ই শেখানো হয়েছিল। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে বলা যায় যে ভারত এখন সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে চলছে। সেই সঙ্গে সীমান্তবর্তী সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা ও প্রস্তুতিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্র।