চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক লড়াই ক্রমেই জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। সরকার গঠনকে কেন্দ্র করে যখন জোর রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছে, ঠিক সেই সময় অভিনেতা বিজয়ের দল টিভিকে-র বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ দায়ের করল এএমএমকে। অভিযোগ, রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানাতে গিয়ে বিজয় যে সমর্থনপত্র জমা করেছিলেন, তা জাল।
এএমএমকে-র দাবি, ওই সমর্থনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছিল যে এমএমএমকে বিজয়কে সমর্থন করছে। কিন্তু বাস্তবে সেই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে এমএমএমকে-র একমাত্র বিধায়ক এস কামরাজ। এই অভিযোগ সামনে আসতেই পাল্টা পদক্ষেপ নেয় টিভিকে। দলের তরফে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যেখানে কামরাজকে বিজয়ের নেতৃত্বাধীন টিভিকে-কে সমর্থন জানিয়ে চিঠি লিখতে দেখা যায়। পাশাপাশি ভিডিওতে তাঁকে প্রকাশ্যেই টিভিকে-র প্রতি সমর্থন জানাতে দেখা গিয়েছে। টিভিকে-র দাবি ছিল, কামরাজকে নিয়ে তাঁর দলের যে বক্তব্য, সেটাই বরং মিথ্যা। তবে এবার সেই বিতর্কই নতুন মোড় নিয়েছে, কারণ টিভিকে-র বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার নাটকীয়তা এখানেই থামেনি। সূত্রের খবর, সম্প্রতি লোক ভবনে গিয়ে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এক রাজনৈতিক প্রতিনিধি দল।
সেখানে এআইএডিএমকে-র সরকার গঠনের দাবিকে সমর্থন জানানো হয়। আর সেই সময় রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে উপস্থিত ছিলেন কামরাজ নিজেও। ফলে কামরাজ আদৌ বিজয়কে সমর্থন করছেন কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। এই ঘটনার পরেই টিভিকে-র বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হওয়ায় বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। এদিকে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের জন্য ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে একসঙ্গে জোট বাঁধার চেষ্টা করছে।
উদ্দেশ্য, আবারও দ্রাবিড় ঘরানার সরকার প্রতিষ্ঠা করা। এই জল্পনা বিজয় শিবিরে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এর মধ্যেই পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্যে শুরু হয়েছে তথাকথিত ‘রিসোর্ট পলিটিক্স’। সূত্রের খবর, নিজেদের বিধায়কদের ‘নিরাপদে’ রাখতে কংগ্রেস ইতিমধ্যেই তাদের পাঁচ বিধায়ককে বেঙ্গালুরুতে পাঠিয়ে দিয়েছে। শুক্রবার রাতেই ওই পাঁচ বিধায়ক কর্নাটকের রাজধানীর উদ্দেশে রওনা দেন বলে খবর। তামিলনাড়ুর সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন যখন চরমে, তখন এই অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও বিস্ফোরক করে তুলেছে। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ কোনদিকে মোড় নেয়।