ad
ad

Breaking News

M. R. K. Panneerselvam

বিস্ফোরক মন্তব্যের পর ড্যামেজ কন্ট্রোল! পনিরসেলভামের পাশেই কি দাঁড়াচ্ছে ডিএমকে?

এই মন্তব্যের জেরে বিতর্ক শুরু হতেই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামে শাসক দল ডিএমকে।

tamil-nadu-hindi-imposition-row-minister-panneerselvam-controversy

চিত্রঃ সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে ‘হিন্দি আগ্রাসন’ বিতর্ক নতুন করে উসকে দিলেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী এম আর কে পনিরসেলভাম। উত্তর ভারতের পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দাক্ষিণাত্যের রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। রাজ্যের দ্বি-ভাষা নীতির প্রশংসা করতে গিয়ে মন্ত্রী উত্তর ভারতীয়দের পেশা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন, যা নিয়ে জাতীয় স্তরে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

পনিরসেলভাম দাবি করেন, উত্তর ভারতের মানুষ শুধুমাত্র হিন্দি শেখার কারণে কাজের সুযোগের অভাবে তামিলনাড়ুতে এসে টেবিল পরিষ্কার করা, নির্মাণ শ্রমিকের কাজ বা ফুচকা বিক্রির মতো পেশা বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে, তামিলনাড়ুর মানুষ রাজ্যের ‘দ্বি-ভাষা নীতি’ (তামিল ও ইংরেজি) অনুসরণ করার ফলে ইংরেজি শিক্ষায় পারদর্শী হয়ে আমেরিকা বা লন্ডনের মতো দেশগুলোতে কোটি কোটি টাকা আয় করছেন। তাঁর মতে, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা তামিল যুবকদের বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করেছে, যা হিন্দিভাষী রাজ্যগুলোর ক্ষেত্রে ঘটেনি।

এই মন্তব্যের জেরে বিতর্ক শুরু হতেই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামে শাসক দল ডিএমকে। দলের মুখপাত্র ড. সৈয়দ হাফিজুল্লাহ জানান, তাঁরা কোনো পেশাকেই ছোট করছেন না এবং হিন্দিভাষীদের প্রতি তাঁদের কোনো বিদ্বেষ নেই। তবে তিনি কেন্দ্রের ‘ত্রি-ভাষা নীতি’র সমালোচনা করে বলেন যে, তামিলনাড়ুর দ্বি-ভাষা নীতিই এখানকার মানুষের উন্নতির চাবিকাঠি। অন্যদিকে, ডিএমকে সাংসদ টিআর বালু দাবি করেছেন যে পনিরসেলভামের মন্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তামিলনাড়ুর শিল্পমন্ত্রী টিআরবি রাজাও জানিয়েছেন যে রাজ্যে জার্মান বা জাপানি নাগরিকরা স্বচ্ছন্দে থাকতে পারলে হিন্দিভাষীদের সমস্যা হওয়ার কথা নয়, তবে তামিল ভাষা রক্ষা করা সরকারের প্রধান কর্তব্য।

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তামিল ও হিন্দি ভাষার এই আবেগঘন লড়াই একটি বড় ইস্যু হয়ে উঠতে চলেছে। ডিএমকে এবং কংগ্রেস জোটের বিপরীতে রয়েছে এআইএডিএমকে ও বিজেপির জোট। বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকারের ‘জাতীয় শিক্ষানীতি’ (NEP) এবং সেখানে প্রস্তাবিত ত্রি-ভাষা নীতিকে শুরু থেকেই ‘হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা’ হিসেবে দেখে আসছে তামিলনাড়ু সরকার। ১৯৩০ এবং ৬০-এর দশকের হিন্দি-বিরোধী দাঙ্গার ইতিহাস মনে করিয়ে দিয়ে দক্ষিণের রাজ্যগুলো বারবার অভিযোগ করেছে যে কেন্দ্র আঞ্চলিক ভাষার ওপর হিন্দি চাপাতে চাইছে। যদিও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান আগেই স্পষ্ট করেছেন যে কোনো ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার প্রশ্নই নেই, বরং শিক্ষার শিকড়ের সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপনই তাঁদের লক্ষ্য।