চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: জাতীয় রাজনীতিতে ফের জোর চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে শরদ পওয়ারের দল এনসিপি । গত কয়েক দিন ধরে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছড়িয়েছে, বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র সঙ্গ ছেড়ে এনডিএ-তে যোগ দিতে পারে শরদ পওয়ারের দল। তবে সেই জল্পনা উড়িয়ে দিলেন শরদ পওয়ার-কন্যা তথা সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, কেন্দ্র সরকার আসন পুনর্বিন্যাস বিলে নির্দিষ্ট সংশোধনী আনলে সেই বিলকে সমর্থন করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে তাঁদের দল।
বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুপ্রিয়া বলেন, আমাদের নিয়ে নানা গুজব ছড়ানো হচ্ছে। আমরা কোথাও যাচ্ছি না, ‘ইন্ডিয়া’ জোটেই রয়েছি। তবে আসন পুনর্বিন্যাস বিল প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, আগে বিলটি আসুক। যদি কেন্দ্র লিখিতভাবে জানায় যে সব রাজ্যের লোকসভা আসন ৫০ শতাংশ করে বাড়ানো হবে, তাহলে আমরা বিষয়টি ভেবে দেখতে পারি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই মন্তব্য কেন্দ্র ও এনসিপি (শরদ)-র মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনাকে নতুন করে উসকে দিয়েছে। যদিও দলবদলের সম্ভাবনা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে এনসিপি (শরদ) নেতৃত্ব।
সম্প্রতি সংসদে আসন পুনর্বিন্যাস বিল প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়ায় তা আটকে যায়। এরপর থেকেই বিরোধী শিবিরের একাধিক দলের সঙ্গে কেন্দ্রের আলোচনা শুরু হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা। সূত্রের দাবি, সব রাজ্যে সমান হারে অর্থাৎ বর্তমান আসনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। আসন পুনর্বিন্যাস বিল নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে এসেছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। তাদের আশঙ্কা, শুধুমাত্র জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন বাড়ানো হলে উত্তর ভারতের জনবহুল রাজ্যগুলি বেশি সুবিধা পাবে, আর জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল দক্ষিণের রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব তুলনামূলকভাবে কমে যেতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটেই সুপ্রিয়া সুলে জানান, যদি কেন্দ্র আইনে স্পষ্টভাবে সব রাজ্যের জন্য সমান হারে ৫০ শতাংশ আসন বৃদ্ধির নিশ্চয়তা দেয়, তাহলে তাঁদের দল বিলটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করতে পারে। তবে বিলের চূড়ান্ত খসড়া হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে রাজি নন বলেও জানান তিনি। এদিকে, শরদ পওয়ারের সঙ্গে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীস এবং উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের সাম্প্রতিক বৈঠক ঘিরেও রাজনৈতিক জল্পনা তুঙ্গে। যদিও এনসিপি (শরদ)-র তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এনডিএ-তে যোগ দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই এবং দল বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র সঙ্গেই থাকবে।