চিত্রঃ AI
Bangla Jago Desk: স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বয়সের ছাড় সংক্রান্ত কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি অমৃতা সিংহের দেওয়া পূর্ববর্তী একটি রায়কে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলায় সোমবার এই আদেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, আপাতত হাই কোর্টের ওই নির্দেশ কার্যকর করা যাবে না। আগামী মার্চ মাসে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
মূল ঘটনার সূত্রপাত ২০১৬ সালের নিয়োগ প্যানেল বাতিলকে কেন্দ্র করে। সুপ্রিম কোর্ট এর আগে নির্দেশ দিয়েছিল যে, ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের পর যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে, তাতে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নন এমন প্রার্থীরা বয়সে ছাড় পাবেন। অর্থাৎ, নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও তাঁরা পুনরায় পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবেন। এই নির্দেশের ওপর ভিত্তি করেই একদল নতুন চাকরিপ্রার্থী কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁরা দাবি করেন, যদিও তাঁরা ২০১৬ সালের প্রক্রিয়ায় অংশ নেননি, তবুও তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ নেই। তাই একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগে তাঁদেরও বয়সের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেওয়া হোক।
গত ১২ ডিসেম্বর বিচারপতি অমৃতা সিংহ আবেদনকারীদের পক্ষে রায় দিয়েছিলেন। তিনি পর্যবেক্ষণ করেন যে, এসএসসি যেহেতু পৃথকভাবে কোনো দুর্নীতির তালিকা প্রকাশ করেনি, তাই যাঁদের নাম অভিযুক্তের তালিকায় নেই, তাঁদের ক্ষেত্রেও সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া বয়সের ছাড় প্রযোজ্য হওয়া উচিত। বিচারপতি সিংহের যুক্তি ছিল, স্রেফ বয়সের কারণে কাউকে এই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। হাই কোর্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে এমন অনেক প্রার্থী সুযোগ পাওয়ার পথ খুঁজে পেয়েছিলেন, যাঁরা আগে কখনও এসএসসি পরীক্ষা দেননি।
হাই কোর্টের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছালে পরিস্থিতি বদলে যায়। সোমবার শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, হাই কোর্ট যে নতুন প্রার্থীদের বয়সের ছাড় দিয়েছিল, তার ওপর আপাতত স্থগিতাদেশ বলবৎ থাকবে। আদালত এই মামলার সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি পক্ষকে নোটিস জারি করেছে এবং আগামী শুনানির আগে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। মার্চ মাসে সুপ্রিম কোর্টে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের সামগ্রিক নিয়োগ প্যানেল বাতিলের পর সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, যাঁরা দাগি বা অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত, তাঁরা নতুন কোনো প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন না এবং তাঁদের প্রাপ্ত বেতনও ফেরত দিতে হবে। তবে যোগ্য প্রার্থীদের জন্য বয়সের ছাড়ের দরজা খোলা রাখা হয়েছিল। হাই কোর্টের রায়ে সেই ছাড়ের পরিধি নতুন প্রার্থীদের জন্য বিস্তৃত করা হলেও, শীর্ষ আদালতের বর্তমান স্থগিতাদেশের ফলে পুরো বিষয়টি এখন আইনি জটিলতায় আটকে গেল।