ad
ad

Breaking News

Supreme Court Orders Free Sanitary Napkins

স্কুলে বিনামূল্যে স্যানিটারি প্যাড দেওয়া এখন ‘মৌলিক অধিকার’, রায় সুপ্রিম কোর্টের

আদালত সাফ জানিয়েছে, স্কুল সরকারি হোক বা বেসরকারি— ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীদের জন্য এই সুবিধা প্রদান করতে হবে।

Supreme Court Orders Free Sanitary Napkins

চিত্রঃ সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: দেশের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি স্কুলের ছাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে পরিবেশবান্ধব স্যানিটারি ন্যাপকিন সরবরাহ নিশ্চিত করতে এক ঐতিহাসিক নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মাধবনের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ঋতুকালীন স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করা সংবিধানের চোখে একটি মৌলিক অধিকার। এই নির্দেশ দেশের প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সমস্ত স্কুলের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত জীবন ও মর্যাদার অধিকারের মধ্যেই মহিলাদের ঋতুকালীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত। আদালত সাফ জানিয়েছে, স্কুল সরকারি হোক বা বেসরকারি— ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীদের জন্য এই সুবিধা প্রদান করতে হবে। যদি কোনও স্কুল কর্তৃপক্ষ স্যানিটারি ন্যাপকিন বা প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

এই রায়ে ছাত্রীদের সুবিধার্থে মূলত তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছে শীর্ষ আদালত। প্রথমত, প্রতিটি স্কুলে ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য পৃথক শৌচাগার নির্মাণ করতে হবে এবং সেখানে পর্যাপ্ত জলের ব্যবস্থা রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, শৌচাগারগুলি তৈরির সময় বিশেষ ভাবে সক্ষম পড়ুয়াদের ব্যবহারের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। তৃতীয়ত, পরিবেশবান্ধব স্যানিটারি ন্যাপকিনের পাশাপাশি শৌচাগারে সাবান ও প্রয়োজনীয় ওষুধের মতো স্বাস্থ্য সামগ্রী মজুত রাখতে হবে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে জয়া ঠাকুর নামে এক ব্যক্তির দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে এই রায় এল। মামলার পর্যবেক্ষণে বিচারপতিরা জানান, সঠিক শৌচাগার বা ঋতুকালীন স্বাস্থ্য পরিষেবার অভাব থাকলে তা সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারায় সমতার অধিকার এবং ২১এ ধারায় বাধ্যতামূলক শিক্ষার অধিকারকে লঙ্ঘন করে। ছাত্রীদের শারীরিক অস্বস্তি বা জরুরি অবস্থার কথা মাথায় রেখে স্কুলে অতিরিক্ত ইউনিফর্ম রাখার পরামর্শও দিয়েছে আদালত।

আদালতের এই নির্দেশিকা কার্যকর হলে স্কুলছুট ছাত্রীদের সংখ্যা হ্রাস পাবে এবং নারী শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই নির্দেশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ছাত্রীদের মর্যাদা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়ভার এখন সরাসরি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির ওপর বর্তাল।