ad
ad

Breaking News

Supreme Court

ইতিহাস গড়ার পথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! কালো চাদর জড়িয়ে সুপ্রিম কোর্টে মুখ্যমন্ত্রী

এই মামলায় তাঁর মূল দাবি হল, পশ্চিমবঙ্গ থেকে মাইক্রো অবজার্ভারদের প্রত্যাহার করতে হবে।

Supreme Court: Mamata Banerjee Argues Her Own Case

চিত্র- সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: ভারতবর্ষের বিচারবিভাগীয় ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে সরাসরি দেশের শীর্ষ আদালতে পৌঁছালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের নিরাপত্তা উপদেষ্টা মনোজ বর্মা। এদিন সশরীরে এজলাসে উপস্থিত হয়ে ইতিহাস গড়লেন তিনি, কারণ দেশের প্রথম কোনও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের দায়ের করা মামলায় নিজেই সওয়াল করতে হাজির হলেন তিনি। আদালত কক্ষে মমতার পরনে আইনজীবীদের চিরাচরিত কালো গাউন বা শামলা না থাকলেও, গলায় একটি কালো চাদর জড়িয়ে তিনি তাঁর আইনি লড়াইয়ের বার্তা স্পষ্ট করে দেন। এই মামলায় তাঁর মূল দাবি হল, পশ্চিমবঙ্গ থেকে মাইক্রো অবজার্ভারদের প্রত্যাহার করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর আরজি, এই অবজার্ভাররা যেন শুনানি প্রক্রিয়া বা নথিপত্র যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কোনওরকম আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ না করেন।

নথিপত্র যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, যাচাইয়ের সময় রাজ্য সরকারের জারি করা নথিপত্র গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হোক নির্বাচন কমিশনকে। পাশাপাশি, ভিনরাজ্যের নথি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে পাঁচ দিনের বেশি সময় লাগলে স্থানীয় ইআরও-দের মামলা নিষ্পত্তির অনুমতি দেওয়ার দাবিও তিনি পেশ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর হয়ে আইনি বৈধতা এবং সাধারণ মানুষের হয়রানির প্রশ্নগুলো আদালতে তুলে ধরেন বর্ষীয়ান আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আইনি লড়াইয়ের পাশে দাঁড়িয়েছে শিব সেনা (উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠী)। দলের নেত্রী প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের কড়া সমালোচনা করে জানান, পশ্চিমবঙ্গ-সহ বিভিন্ন রাজ্যে যেভাবে একতরফা প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে, তা অনভিপ্রেত। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, শিব সেনা এই লড়াইয়ে মমতার পাশে আছে।

মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে দিল্লি জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট চত্বর মুড়ে ফেলা হয়েছে দিল্লি পুলিশের কড়া প্রহরার চাদরে। সাধারণ মানুষের হয়রানি কমাতে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে মমতার এই আইনি পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।