চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: নগদকাণ্ডে এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি যশবন্ত বর্মার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত করবে সংসদীয় কমিটিই এমনটাই স্পষ্ট করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। লোকসভার স্পিকার গঠিত তদন্ত কমিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিচারপতি বর্মা যে আবেদন করেছিলেন, শুক্রবার তা খারিজ করে দেয় শীর্ষ আদালত। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি এস সি শর্মার বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। গত ৮ জানুয়ারি শুনানি শেষ হওয়ার পর রায়দান স্থগিত রাখা হয়েছিল। শুক্রবার সেই রায় ঘোষণায় বিচারপতি বর্মার আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। এর ফলে স্পিকার ওম বিড়লার গড়া সংসদীয় কমিটির তদন্তে আর কোনও আইনি বাধা রইল না। সুপ্রিম কোর্টে করা আবেদনে বিচারপতি বর্মার দাবি ছিল, তাঁর অপসারণের প্রস্তাব আগেই রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে লোকসভার স্পিকার নতুন করে তদন্ত কমিটি গঠন করতে পারেন না। তবে শীর্ষ আদালত সেই যুক্তি মান্যতা দেয়নি।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি থাকাকালীন বিচারপতি বর্মার সরকারি বাংলোয় অগ্নিকাণ্ডের পর বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছিল।ঘটনার পর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নজরে নিয়ে তাঁকে দিল্লি হাইকোর্ট থেকে এলাহাবাদ হাইকোর্টে স্থানান্তরিত করেন।যদিও বিচারপতি বর্মা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, অগ্নিকাণ্ডের সময় তিনি বাংলোতে উপস্থিত ছিলেন না এবং সেখান থেকে কোনও নগদ উদ্ধার হয়নি। সংসদীয় কমিটির কাছেও তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তিনি ‘ফার্স্ট রেসপন্ডার’ ছিলেন না, ফলে পুলিশ বা দমকল বিভাগের কোনও গাফিলতির দায় তাঁর উপর বর্তায় না।
এরপরেই ২০২৫ সালের অগস্টে বিচারপতি যশবন্ত বর্মার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি সংসদীয় প্যানেল গঠন করেন লোকসভার স্পিকার। ওই কমিটিতে রয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অরবিন্দ কুমার, মাদ্রাজ হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি মণীন্দ্র মোহন এবং বর্ষীয়ান আইনজীবী বিভি আচার্য।এই কমিটি বর্মার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সংক্রান্ত যাবতীয় নথি খতিয়ে দেখা ছাড়াও সাক্ষীদের সঙ্গে কথা বলতে পারবে। তদন্ত শেষে রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে লোকসভার স্পিকারের কাছে। বিচারপতি বর্মার অপসারণ বা ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়ায় এই রিপোর্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।সংসদীয় কমিটির রিপোর্ট হাতে পেলে লোকসভার স্পিকার তা সংসদে পেশ করবেন। তদন্তে বিচারপতি বর্মা দোষী সাব্যস্ত হলে প্রথমে লোকসভা এবং পরে রাজ্যসভায় ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া চলবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বিষয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের অবস্থান প্রায় একই হওয়ায় গোটা প্রক্রিয়া তুলনামূলক ভাবে মসৃণ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।