ad
ad

Breaking News

Modi’s Silence

খামেনেই হত্যাকাণ্ডে নীরব প্রধানমন্ত্রী! সোনিয়া গান্ধির মন্তব্যে চাঞ্চল্য

অতীতে ভারতের স্বার্থরক্ষায় ইরানের সহায়ক ভূমিকার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দিল্লির নীরবতা উদ্বেগজনক।

Sonia Gandhi Criticizes Modi’s Silence on Khamenei Attack

চিত্র- সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের হত্যাকাণ্ড ঘিরে কেন্দ্রীয় সরকারের নীরবতা নিয়ে সরব হলেন কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধি। তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র ‘মৌনতা’ বজায় রাখছেন। যা দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সমান। সোনিয়া গান্ধি বলেন, আলোচনার প্রক্রিয়া চলাকালীন কোনও রাষ্ট্রপ্রধানকে লক্ষ্য করে হামলা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুতর দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। তাঁর মতে, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে ভারতের উচিত ছিল সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া। ‘নীরবতা মানে নিরপেক্ষতা নয়, এটি দায়িত্ব থেকে পিছু হটা,’ মন্তব্য সোনিয়া গান্ধির ।

সোনিয়া গান্ধি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৯৪ সালে মুসলিম দেশগুলির সংগঠন ও আইসি রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কমিশনে কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত-বিরোধী প্রস্তাব তুলতে উদ্যোগী হয়েছিল। সেই সময় তেহরান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে সেই প্রস্তাব রুখে দেয় বলে দাবি তাঁর।তাঁর বক্তব্য, সেই সময় ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কারের সূচনা পর্ব চলছিল। আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাশ্মীর প্রশ্নে চাপ তৈরি হলে দেশের কূটনৈতিক ও আর্থিক অবস্থান জটিল হয়ে উঠতে পারত। অতীতে ভারতের স্বার্থরক্ষায় ইরানের সহায়ক ভূমিকার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দিল্লির নীরবতা উদ্বেগজনক।

২০০১ সালের এপ্রিলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর তেহরান সফরের কথাও তুলে ধরেন সোনিয়া। তাঁর দাবি, বাজপেয়ী সে সময় ভারত-ইরান সম্পর্ককে ‘সভ্যতাগত ও সমকালীন’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক সম্পর্ক বর্তমান সরকারের কাছে প্রাসঙ্গিক বলে মনে হচ্ছে না বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। সাম্প্রতিক কালে ভারতের সঙ্গে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা, কৃষি ও প্রযুক্তি সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলেও, তেহরান ও তেল আভিভ – দুই পক্ষের সঙ্গেই ভারতের সম্পর্ক রয়েছে বলে উল্লেখ করেন সোনিয়া।

তাঁর মতে, সেই কূটনৈতিক পরিসর বজায় রাখতে গেলে নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় এক কোটির কাছাকাছি ভারতীয় বসবাস করেন। অতীতের উপসাগরীয় যুদ্ধ, ইয়েমেন বা ইরাক-সিরিয়া সংকটের সময় ভারত নিজের স্বাধীন কূটনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার জোরেই নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পেরেছে। যদিও খামেনেই হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরাসরি কোনও বিবৃতি দেয়নি কেন্দ্র, তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংযম ও সংলাপের পক্ষে সওয়াল করেছে নয়াদিল্লি। প্রধানমন্ত্রী মোদি সোমবার বলেন, ভারত বরাবর আলোচনার মাধ্যমে শান্তি প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসী। দ্বন্দ্বের চেয়ে শান্তির শক্তি বেশি।