চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ধূমপানের অভ্যাস কেবল নিজের স্বাস্থ্যের জন্যই ক্ষতিকর নয়, বরং তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিতে পারে। সম্প্রতি এক গবেষণায় এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ‘জার্নাল অফ দ্য এন্ডোক্রিন সোসাইটি’-তে প্রকাশিত এই গবেষণা অনুযায়ী, তামাক সেবনকারী বাবার সন্তানদের শরীরে শর্করা বিপাক প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে, যা পরবর্তী জীবনে তাদের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার পথ প্রশস্ত করে।

বিশ্বজুড়ে ডায়াবেটিস এখন একটি ভয়াবহ স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, সেখানে বর্তমানে ৪ কোটিরও বেশি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। এই রোগ দীর্ঘস্থায়ী হলে হৃদরোগ, কিডনির জটিলতা এবং স্নায়ুর ক্ষতির মতো মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে। শুধু শারীরিক ক্ষতিই নয়, এই রোগের দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার পেছনে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ব্যয়ও হয়। গবেষকদের মতে, ধূমপান বা ই-সিগারেট বর্জন করলে এই স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকাংশেই কমানো সম্ভব। বিশেষ করে পুরুষদের মধ্যে তামাক ব্যবহারের প্রবণতা বেশি হওয়ায়, তাদের এই অভ্যাস ত্যাগ করলে ডায়াবেটিসের ক্রমবর্ধমান হার নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হতে পারে।

ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, সান্তা ক্রুজের গবেষক ড. রাকেল চামোরো-গার্সিয়া এই গবেষণার মূল দিকটি ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানান, গবেষণাগারে পুরুষ ইঁদুরের ওপর নিকোটিন প্রয়োগ করে দেখা গিয়েছে যে, তাদের সন্তানদের শরীরে বিপাকীয় পরিবর্তন ঘটছে। নিকোটিন গ্রহণকারী পুরুষ ইঁদুরের কন্যা সন্তানদের মধ্যে ইনসুলিন এবং ফাস্টিং গ্লুকোজের মাত্রা কম পাওয়া গিয়েছে। অন্যদিকে, পুত্র সন্তানদের রক্তে শর্করার মাত্রা এবং লিভারের কার্যকারিতায় নেতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছে। এই ধরনের পরিবর্তন মূলত স্থূলতা এবং লিভারের সমস্যার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। এই গবেষণার একটি বিশেষ দিক হল, এখানে শুধুমাত্র বিশুদ্ধ নিকোটিন ব্যবহার করা হয়েছিল। ফলে এটি নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে যে, সিগারেটের অন্যান্য রাসায়নিক নয় বরং নিকোটিন নিজেই এই পরিবর্তনের জন্য দায়ী। ড. চামোরো-গার্সিয়ার মতে, এই ফলাফল প্রমাণ করে যে সন্তান ধারণের আগে বাবার সুস্বাস্থ্য এবং জীবনযাপন কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বাবার জীবনধারার পছন্দগুলি সরাসরি তার ভবিষ্যৎ সন্তানের স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।