চিত্র: সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ৭৭-তম সাধারণতন্ত্র দিবসের বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজে প্রতিবছরের মতো এবারও বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পোশাক। গত এক দশক ধরে চলা তাঁর নিজস্ব ধারা বজায় রেখে প্রধানমন্ত্রী এবারও তাঁর বেশভূষায় ভারতের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে তুলে ধরেছেন। নীল রঙের কুর্তা ও হালকা রঙের নেহরু জ্যাকেটের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মাথায় ছিল উজ্জ্বল লাল রঙের ‘লেহরিয়া’ ধাঁচের রাজস্থানি পাগড়ি। লালের ওপর সোনালি কারুকাজ করা এই পাগড়ি পশ্চিম ভারতে খুশি ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে গণ্য হয়। বিশেষ করে তাঁর নেহরু জ্যাকেট পরিধানের বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে এক বিশেষ প্রতীকী বার্তা হিসেবেও আলোচিত হচ্ছে (Republic Day)।
প্রধানমন্ত্রীর এই পাগড়ি কেবল একটি ফ্যাশন নয়, বরং এটি ভারতের ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’-এর একটি দৃশ্যমান প্রতিফলন। ২০১৪ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি প্রতি বছর সাধারণতন্ত্র দিবসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ঐতিহ্যবাহী পাগড়ি পরে উপস্থিত হন। কখনও গুজরাতি, কখনও রাজস্থানি আবার কখনও উত্তর ভারতের ঘরানা— তাঁর এই পোশাক নির্বাচনের মাধ্যমে ভারতের প্রতিটি অঞ্চলের আত্মপরিচয় ও জাতীয় মর্যাদাকেই তিনি সম্মান জানান। কুচকাওয়াজের সামরিক গাম্ভীর্যের মাঝে এই বর্ণিল পাগড়ি ভারতের বহুত্ববাদী চরিত্রের এক সাংস্কৃতিক ভাষ্য হয়ে ওঠে।
এবারের সাধারণতন্ত্র দিবসের উদযাপন ছিল বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। অনুষ্ঠানের মূল থিম বা বিষয়বস্তু নির্ধারিত হয়েছে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর। ১৮৭৫ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত এই কালজয়ী গানের দেড় শতক পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে বছরভর যে উদযাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্র, তার আনুষ্ঠানিক সূচনা হল এই কুচকাওয়াজ থেকেই (Republic Day)।
এদিন কুচকাওয়াজ শুরু হওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে (National War Memorial) দেশের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখান থেকে তিনি পৌঁছান ‘কর্তব্যপথে’, যেখানে ভারতের সামরিক শক্তি ও প্রযুক্তির অগ্রগতির পাশাপাশি প্রদর্শিত হয় বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। একদিকে যখন দেশের প্রতিরক্ষা শক্তি ও কূটনৈতিক আত্মবিশ্বাসের প্রদর্শনী চলছিল, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহ্যবাহী পোশাক সেই রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে এক মানবিক ও সাংস্কৃতিক মাত্রা যোগ করে।
পেশাদার পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তাঁর পোশাকের মাধ্যমে বারবার এই বার্তাই দিতে চান যে, রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তির ভিত্তি কেবল সমরসম্ভারে নয়, বরং তার গভীরে থাকা সুপ্রাচীন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মধ্যেই নিহিত (Republic Day)।