ad
ad

Breaking News

Relationship Verdict

বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক অপরাধ নয়, বিচার করা যায় না চরিত্রও! রায় সুপ্রিম কোর্টের

বিয়ের আগে কোনও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি যদি সম্মতিসূচক সম্পর্কে জড়ান, তবে কি তার ভিত্তিতে তাঁর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়?

Relationship Verdict Premarital Relationship Can't Define Character

চিত্র- AI

Bangla Jago Desk: বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্কে জড়ানো দিয়ে কোনও ব্যক্তির চরিত্র বিচার করা যায় না। এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট। তেলেঙ্গানার এক পুলিশকর্মীর নিয়োগ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে এই মন্তব্য করে শীর্ষ আদালত। আদালতের মতে, সমাজ বদলেছে। তাই সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত পছন্দ নিয়ে পুরনো ধ্যানধারণা আঁকড়ে বিচার করা যায় না। তেলেঙ্গানার কনস্টেবল গজুলা তিরুপতির নিয়োগ ঘিরে মামলার শুনানি চলছিল সুপ্রিম কোর্টে। তাঁর বিরুদ্ধে আগে একটি ফৌজদারি মামলা হয়েছিল। সেই মামলার সূত্র ছিল তাঁর একটি ব্যক্তিগত সম্পর্ক, যা শেষ পর্যন্ত বিয়েতে গড়ায়নি। শুনানির সময় প্রশ্ন ওঠে, বিয়ের আগে কোনও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি যদি সম্মতিসূচক সম্পর্কে জড়ান, তবে কি তার ভিত্তিতে তাঁর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়?

বিচারপতি মনমোহন এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রর বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, সব সম্পর্ক বিয়ে পর্যন্ত পৌঁছয় না। কিন্তু সম্পর্ক বিয়ে পর্যন্ত যায়নি বলেই সেখানে প্রতারণা হয়েছে, এমনটা ধরে নেওয়া যায় না। দুই প্রাপ্তবয়স্কের সম্মতিতে তৈরি সম্পর্ককে চরিত্র বিচার করার হাতিয়ার করা যায় না বলেও পর্যবেক্ষণ করে আদালত। সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চের মন্তব্য, অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্করা নিজেদের পছন্দমতো সম্পর্কে জড়াতে পারবেন না—এমন কোনও আইন নেই। বর্তমান সমাজে বিয়ের আগে সম্পর্ক তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। সেই বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই বিচারব্যবস্থা এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিকেও বদলাতে হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে কনস্টেবল পদে নিযুক্ত হন গজুলা তিরুপতি। পরে তিনি জানান, তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকা তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছেন। সেই মামলার কথা সামনে আসতেই তাঁর চাকরি বাতিল করা হয়। পরের বছর ধর্ষণের অভিযোগ প্রত্যাহার হলেও চাকরি আর ফেরত পাননি তিনি। এরপর দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে স্বস্তি পেলেন গজুলা। তাঁর চাকরি ফেরানোর পথ খুলে দেওয়ার পাশাপাশি শীর্ষ আদালত সম্পর্ক, সম্মতি এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিল। আদালতের এই পর্যবেক্ষণ সমাজের পুরনো মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তাকেই সামনে আনল।