চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে দয়া বা করুণার কোনো স্থান নেই বলে সাফ জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি সতীশ চন্দ্র শর্মার ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করেছে যে, সকলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনোভাবেই নিয়ম শিথিল করা উচিত নয়। সম্প্রতি প্রকাশিত এক রায়ে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, শুধুমাত্র অনগ্রসর শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হওয়া কোনো প্রার্থীর জন্য বাড়তি সুবিধা পাওয়ার নির্ধারক হতে পারে না।
ঘটনাটি দিল্লি পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগ সংক্রান্ত। এক আবেদনকারী প্রাথমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষায় (PE&MT) অনুপস্থিত ছিলেন। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ চেয়েছিলেন। সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল (CAT) এবং পরে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দিল্লি হাইকোর্ট ওই প্রার্থীকে দ্বিতীয়বার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। দিল্লি পুলিশ এই রায়ের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলে শীর্ষ আদালত হাইকোর্টের সেই নির্দেশ খারিজ করে দেয়।
সুপ্রিম কোর্ট এই মামলাটিকে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার একটি ধ্রুপদী উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছে। আদালত বলেছে, বড় মাপের সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞপ্তির শর্তাবলী কঠোরভাবে মেনে চলা বাধ্যতামূলক। যখন সুযোগ সীমিত, তখন প্রার্থীদের উচিত তা গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা। প্রায় এক লক্ষ প্রার্থীর মধ্যে কেবলমাত্র এই উত্তরদাতা প্রার্থীই পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছিলেন। আদালতের মতে, কোনো একজন প্রার্থীর জন্য নিয়ম শিথিল করা পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সততাকে নষ্ট করে দেয়।
বেঞ্চ আরও উল্লেখ করেছে যে, প্রার্থীর অসুস্থতা এমন পর্যায়ের ছিল না যার জন্য বিশেষ কোনো ছাড় দেওয়া যেতে পারে। নিয়োগের নির্দিষ্ট দিনে উপস্থিত না হয়ে পুনরায় সুযোগ প্রত্যাশা করা প্রার্থীর উদ্যোগ এবং সদিচ্ছার অভাবকেই প্রমাণ করে। এমনকি অসুস্থ থাকলেও ওই প্রার্থীর উচিত ছিল পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে নিজের সমস্যার কথা জানানো। শেষ পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল ও দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ বাতিল করে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয় যে, পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের দাবি করার কোনো আইনগত অধিকার ওই প্রার্থীর নেই।