চিত্র: সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: তিন দিনের মানিটারি পলিসি কমিটির (এমপিসি) বৈঠকের পর বুধবার আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা ঘোষণা করেন, রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে। ফলে রেপো রেট আগের মতোই ৫.২৫ শতাংশে স্থির থাকল। সোমবার ৬ এপ্রিল থেকে বুধবার ৮ এপ্রিল পর্যন্ত চলা এই বৈঠকে সুদের হার পরিবর্তন না করার সিদ্ধান্ত নেয় এমপিসি।
গভর্নর জানান, বর্তমান সময়ে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তার কারণে মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বেড়েছে। তাই আপাতত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গভর্নর মালহোত্রা বলেন, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ঊর্ধ্বমুখী ঝুঁকি বেড়েছে। বিশেষ করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও খাদ্যদ্রব্যের দামে সম্ভাব্য চাপ উদ্বেগের কারণ।
রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখার পাশাপাশি আরবিআইয়ের মানিটারি পলিসি স্টান্সও ‘নিউট্রাল’ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি,স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি রেট ৫ শতাংশ, মার্জিনাল স্ট্যান্ডিং ফ্যাসিলিটি ও ব্যাঙ্ক রেট ৫.৫ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে আরবিআই। রেপো রেট হল সেই সুদের হার, যে হারে আরবিআই দেশের ব্যাঙ্কগুলিকে ঋণ দেয়। ব্যাঙ্কগুলি সেই হার অনুযায়ী সাধারণ মানুষকে গৃহঋণ, গাড়ির ঋণ-সহ বিভিন্ন লোন প্রদান করে। ফলে রেপো রেট অপরিবর্তিত থাকায় আপাতত বাড়ি-গাড়ির মতো লোনের সুদের হারেও বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তবে স্বস্তির বিষয়, রেপো রেট বৃদ্ধি না পাওয়ায় সাধারণ মানুষের ইএমআই বাড়ার আশঙ্কা আপাতত কাটল।
অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পূর্বাভাস দিয়েছে আরবিআই। গভর্নর জানিয়েছেন, ২০২৭ আর্থিক বছরের জন্য জিডিপি বৃদ্ধির হার ৬.৯ শতাংশ থাকতে পারে। আরবিআইয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষে বিভিন্ন ত্রৈমাসিকে বৃদ্ধির হার হতে পারে প্রথম কোয়ার্টার (এপ্রিল-জুন) ৬.৮ শতাংশ, দ্বিতীয় কোয়ার্টার (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ৬.৭শতাংশ, তৃতীয় কোয়ার্টার (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ৭ শতাংশ, চতুর্থ কোয়ার্টার (জানুয়ারি-মার্চ) ৭.২ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে দেশের গড় মুদ্রাস্ফীতির হার ৪.৬ শতাংশ হতে পারে বলেও জানিয়েছে আরবিআই। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গভর্নর।