চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: সুপ্রিম কোর্টে পথকুকুর সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলাকালীন কুকুরের ‘মেজাজ’ (Mood) নিয়ে শীর্ষ আদালতের করা এক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন অভিনেত্রী তথা রাজনীতিক দিব্য স্পন্দনা (যিনি রাম্যা নামেও পরিচিত)। কুকুরের অনিশ্চিত মেজাজকে পুরুষদের মানসিকতার সঙ্গে তুলনা করে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি। যা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
গত বুধবার সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এনভি আনজারিয়ার তিন সদস্যের বেঞ্চে পথকুকুর ও গবাদি পশু সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলছিল। মামলাকারীদের পক্ষে বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল সওয়াল করেন যে, প্রাণীদের প্রতি সহানুভূতি দেখালে আক্রমণ এড়ানো সম্ভব এবং কুকুরদের নিজস্ব এলাকায় অনুপ্রবেশ ঘটলে তবেই তারা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। এর জবাবে বিচারপতি বিক্রম নাথ মন্তব্য করেন, “কুকুরকে চেনা সম্ভব কী করে? সকালে কোন কুকুর কী মেজাজে রয়েছে, তা তো কারোরই জানা সম্ভব নয়।”
সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণের প্রেক্ষিতে রাম্যা তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি তীক্ষ্ণ পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন। তিনি লেখেন, “পুরুষের মনও তো পড়া যায় না— সে কখন ধর্ষণ বা খুন করবে তাও কেউ জানে না, তবে কি সব পুরুষকেই জেলে ঢুকিয়ে দেওয়া হবে?” উল্লেখ্য, এটিই প্রথম নয়; এর আগেও রেনুকাস্বামী হত্যা মামলা নিয়ে অভিনেতা দর্শন গ্রেফতার হওয়ার পর কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন রাম্যা। তখন তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, আইন সবার ঊর্ধ্বে এবং কেউ কাউকে এভাবে পিটিয়ে মারতে পারে না। সেই সময় তাঁর মন্তব্যের জন্য তাঁকে ধর্ষণ ও খুনের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল, যার প্রেক্ষিতে তিনি ব্যাঙ্গালোর পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত বছরের নভেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্ট হাসপাতাল, স্কুল, খেলার মাঠ এবং রেল স্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে পথকুকুর সরিয়ে নির্দিষ্ট আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। এই নির্দেশের প্রতিবাদে সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘ডু অর ডাই’ শীর্ষক এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সঙ্গীতশিল্পী মোহিত চৌহান এবং রাহুল রামের মতো ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত থেকে কুকুরদের সুরক্ষার দাবি জানান। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (MCD) বন্ধ্যাকরণ ও টিকাকরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং সেই ব্যর্থতার সাজা এখন অবলা প্রাণীদের দেওয়া হচ্ছে।