ad
ad

Breaking News

LPG cylinders

বানের জলে ভাসছে হাজার হাজার রান্নার গ্যাস! নজিরবিহীন বিপত্তি মহারাষ্ট্রে

গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার অতিবৃষ্টির জেরে মহারাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ অংশে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

raigad-floods-hpcl-lpg-cylinders-washed-away-maharashtra

চিত্রঃ সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: কথায় বলে, ‘গোঁদের উপর বিষফোড়া’! একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে দেশে যখন তীব্র জ্বালানি সংকটের মেঘ ঘনিয়ে আসছে, ঠিক তখনই মরার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো ঘটে গেল এক নজিরবিহীন বিপত্তি। মহারাষ্ট্রের রায়গড়ে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা চুরি নয়, স্রেফ বানের জলের তোড়ে ভেসে গেল কয়েক হাজার রান্নার গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডার! এই চরম অপচয়ের ঘটনায় রীতিমতো মাথায় হাত প্রশাসনের।

আসল বিষয়টি হল, গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার অতিবৃষ্টির জেরে মহারাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ অংশে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মুম্বইয়ের মতো মহানগরের পাশাপাশি প্রান্তিক জেলাগুলির জনজীবনও সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। এরই মধ্যে রায়গড় জেলার পানভেল ব্লকের পাতালগঙ্গায় অবস্থিত এইচপিসিএল (HPCL)-এর একটি এলপিজি বটলিং প্ল্যান্টে হু হু করে বন্যার জল ঢুকে পড়ে। দিনকয়েক ধরে জলস্তর ক্রমাগত বাড়তে থাকায় প্ল্যান্টের চত্বরে মজুত রাখা অন্তত ৩ হাজার সিলিন্ডার স্রেফ ভেসে যায় নদীর তীব্র স্রোতে।

ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে এই ঘটনার একটি শিউরে ওঠার মতো ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, প্রবল স্রোতের টানে নদীর জলের ওপর খড়কুটোর মতো ভেসে যাচ্ছে একের পর এক সিলিন্ডার। জানা গিয়েছে, এই বিপুল সংখ্যক সিলিন্ডারের মধ্যে কিছু খালি থাকলেও, বেশ কিছু সিলিন্ডারে ভর্তি ছিল রান্নার গ্যাস। নদী পেরিয়ে এই সিলিন্ডারগুলি সংলগ্ন জনবসতি এলাকায় পৌঁছে গেলে এবং স্থানীয় কেউ তা খোলার চেষ্টা করলে বড়সড় বিস্ফোরণ বা দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে রায়গড় জেলা প্রশাসন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত দফতরকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।

দুর্ঘটনার আশঙ্কার পাশাপাশি এই বিপুল পরিমাণ গ্যাসের অপচয় নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছে এইচপিসিএল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় এমনিতেই দেশে আমদানিকৃত জ্বালানির জোগান ও সিলিন্ডারের জোগান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তার ওপর একলপ্তে এত সিলিন্ডার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সাধারণ গ্রাহকদের ঘরে সময়মতো রান্নার গ্যাস পৌঁছে দেওয়াটাই এখন প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।