Bangla Jago Desk: দেশজুড়ে হাসপাতাল, নার্সিংহোম ও বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর রোগী–পরিজনের হামলার ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। নানা অভিযোগকে কেন্দ্র করে হওয়া এই হিংসার বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গের মতো কিছু রাজ্যে কড়া আইন থাকলেও সারা দেশে এখনও কোনও অভিন্ন কেন্দ্রীয় আইন নেই। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি সর্বভারতীয় আইনের দাবি জানিয়ে আসছেন। অভিযোগ, এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এখনও পর্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
এই প্রেক্ষাপটেই বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় ‘প্রোটেকশন অফ ডক্টর্স’ নামে একটি প্রাইভেট বিল পেশ করা হয়। মহারাষ্ট্রের এনসিপি সাংসদ ফৌজ়িয়া খান জ়িরো আওয়ারে বিলটি উত্থাপন করেন। যদিও বিলটি সংসদের উভয় কক্ষে পাশ হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
প্রস্তাবিত এই বিলে চিকিৎসকদের কাজের পরিবেশ নিরাপদ করা, হিংসার ঘটনা প্রতিহত করা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার জন্য কঠোর ফৌজদারি শাস্তি ও সুস্পষ্ট আইনি কাঠামোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। হিংসার ধরন ও তার ভয়াবহতা অনুযায়ী দোষী সাব্যস্তদের ৬ মাস থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
বিল পেশ করে ফৌজ়িয়া খান বলেন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে হিংসার ঘটনায় কোনও রকম লাগাম নেই। শারীরিক হামলার পাশাপাশি অকথ্য ভাষায় আক্রমণ, মানসিক নির্যাতন, মানহানি এবং কাজের ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনাও ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশজুড়ে একটিমাত্র অভিন্ন আইন থাকা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
তিনি ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ)-এর একটি সমীক্ষার উল্লেখ করে জানান, দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ চিকিৎসক তাঁদের কর্মজীবনের কোনও না কোনও পর্যায়ে রোগী–পরিজনের অসহিষ্ণু আচরণের শিকার হয়েছেন। অন্য পেশার তুলনায় চিকিৎসকদের উপর হামলার ঝুঁকি অন্তত চার গুণ বেশি। এই পরিস্থিতিকে বিলে ‘জাতীয় অশনি সঙ্কেত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংসদের বক্তব্য, বিভিন্ন রাজ্যের সরকার, প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যভিত্তিক আইনগুলি একরকম নয় এবং অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলি যথেষ্ট কার্যকর নয়। এর ফলেই চিকিৎসকেরা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
প্রস্তাবিত বিলে হিংসার সংজ্ঞার মধ্যে শারীরিক আক্রমণ, ভয় দেখানো, অপমান করা, চিকিৎসার কাজে বাধা দেওয়া এবং চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি ভাঙচুরের মতো ঘটনাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী এবং চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সকল কর্মীর সুরক্ষায় এই আইন কার্যকর করার প্রস্তাব রয়েছে।
বিল অনুযায়ী, হিংসার কোনও ঘটনা ঘটলে এক ঘণ্টার মধ্যে এফআইআর দায়ের করা বাধ্যতামূলক। পুলিশ এফআইআর নিতে অস্বীকার করলে বা দেরি হলে সংশ্লিষ্ট ডিউটি অফিসারকে আইনি জবাবদিহির মুখে পড়তে হবে। পাশাপাশি হামলার ঘটনায় অভিযুক্তকে জামিন-অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তারেরও সংস্থান রাখা হয়েছে।
এই প্রাইভেট বিলের লক্ষ্য হল রাজ্যভিত্তিক পৃথক আইনগুলিকে একত্রিত করে একটি অভিন্ন কেন্দ্রীয় আইন তৈরি করা, যা দেশের সর্বত্র সমানভাবে কার্যকর হবে। রাজ্যগুলির মধ্যে আইনি ব্যবধান কমিয়ে একটি জাতীয় মানদণ্ড স্থাপনের কথাও এতে বলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিমারী পরবর্তী সময়ে চিকিৎসকদের উপর হামলার ঘটনা বেড়েছে, আর সেই কারণেই এমন একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় আইন এখন সময়ের দাবি।



