চিত্র- AI
Bangla Jago Desk: ছাত্রী ও কর্মরতা মহিলাদের জন্য দেশব্যাপী ঋতুকালীন ছুটি বা পিরিয়ড লিভ বাধ্যতামূলক করার দাবিতে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার শুনানিতে স্পষ্ট জানিয়েছে, ঋতুস্রাবের সময় ছুটি মঞ্জুর করার বিষয়টি আইনি বাধ্যতামূলক রূপ দিলে তার অপব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে আদালত মনে করছে, এই ধরনের আইন কার্যকর হলে কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সারা দেশে অভিন্ন ঋতুকালীন ছুটি চালু হলে বেসরকারি সংস্থাগুলি মহিলাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে অনীহা প্রকাশ করতে পারে। এতে মহিলাদের পেশাদারিত্ব এবং নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে তাঁদের পদোন্নতি বা কর্মসংস্থানের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। বিচারপতিদের মতে, এই ধরনের নিয়ম অজান্তেই মহিলাদের ‘অক্ষম’ হিসেবে তুলে ধরতে পারে, যা চিরাচরিত লিঙ্গবৈষম্যকে আরও উসকে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করে।
মামলাকারী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠীর পক্ষে আইনজীবী এম আর শামশাদ কেরল, কর্নাটক ও পঞ্জাবের কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি সংস্থার উদাহরণ দিলেও আদালত তা বাধ্যতামূলক করতে রাজি হয়নি। প্রধান বিচারপতি জানান, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি স্বেচ্ছায় এই সুবিধা দেয় তবে তা প্রশংসনীয়, কিন্তু বিচার বিভাগ থেকে দেশব্যাপী কোনো নির্দিষ্ট নীতি চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। স্পেন, জাপান বা দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশে এই ব্যবস্থা চালু থাকলেও ভারতীয় প্রেক্ষাপটে এর সামাজিক ও পেশাগত পরিণাম ভিন্ন হতে পারে বলে আদালত মনে করছে।
আদালত এই মামলার নিষ্পত্তি করে জানিয়েছে যে, ঋতুকালীন ছুটির বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নীতি নির্ধারণের এক্তিয়ারভুক্ত। এখন কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কীভাবে মহিলাদের স্বাস্থ্যের অধিকার এবং কর্মসংস্থানের সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখবে। বিচার বিভাগ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, বরং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠানগুলির নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপরই এই বিষয়ের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।