চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: প্রাণ আছে, কিন্তু জীবনের কোনও স্পন্দন নেই—এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এমনই অবস্থায় দিন কাটছে দিল্লির ৩২ বছরের যুবক হরীশ রানার। উদ্ভিজ্জ অবস্থায় শয্যাশায়ী হরীশকে কৃত্রিম লাইফ সাপোর্টে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে মাত্র। এই পরিস্থিতিতে তাঁর নিষ্কৃতিমৃত্যুর আবেদন ঘিরে নতুন করে আলোচনায় শীর্ষ আদালত। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সম্মতি দিয়েছে দেশের সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি জেবি পর্দিওয়ালা ও কে ভি বিশ্বনাথনের ডিভিশন বেঞ্চ ইতিমধ্যেই হরীশের মা-বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। আদালতে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। আবেগের বশে নয়, সম্পূর্ণ সচেতন ও সুপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত হিসেবেই পরিবার এই আবেদন করেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া আদালতের কাছে অত্যন্ত জরুরি।
শুনানির সময় বিচারপতিরা বলেন, “এটি গভীর মানবিক প্রশ্ন। আমরাও মানুষ। কিন্তু কে বাঁচবেন আর কে মরবেন—এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আমাদের কোথায়? কৃত্রিমভাবে প্রাণ ধরে রাখার চিকিৎসা থেকে অব্যাহতি দেওয়া যায় কি না, তা সব দিক থেকে বিচার করে দেখতে হবে।” দিল্লির মহাবীর এনক্লেভের বাসিন্দা হরীশ এক সময় সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র ছিলেন। চণ্ডীগড়ে পেইং গেস্ট হিসেবে থাকার সময় ২০১৩ সালের ২০ অগাস্ট একটি চারতলা বাড়ির ব্যালকনি থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর মাথায় আঘাত পান তিনি। সেই দুর্ঘটনার পর থেকেই তাঁর জীবন কার্যত থমকে যায়। চিকিৎসকদের মতে, তিনি ১০০ শতাংশ কোয়াড্রিপ্লেজিক ডিসেবিলিটিতে আক্রান্ত হন।
এর পর কেটে গিয়েছে ১৩টি বছর। এই দীর্ঘ সময়ে হরীশ কখনও কথা বলেননি, নড়াচড়া করেননি। তিনি শুনতে পান না, দেখতে পান না, কাউকে চিনতেও পারেন না। নিজে থেকে খেতে অক্ষম। সম্পূর্ণভাবে কৃত্রিম লাইফ সাপোর্ট এবং ফিডিং টিউবের উপর নির্ভর করেই তাঁর শরীরের প্রাণবায়ু বজায় রাখা হয়েছে। আদালতে জমা দেওয়া মেডিক্যাল রিপোর্টে হরীশের বাবার বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, “আমার ছেলে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয় না। সে কথা বলতে পারে না, শুনতে পারে না, দেখতে পারে না। নিজের কোনও কাজ নিজে করতে পারে না। পুরোপুরি যন্ত্রের উপর নির্ভর করে বেঁচে আছে।” ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়েও গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন হরীশের বাবা-মা। তাঁদের বয়স বাড়ছে, শরীরও ভেঙে পড়ছে। তাঁদের অবর্তমানে হরীশের দেখভাল কে করবে—এই প্রশ্নই তাঁদের সবচেয়ে বেশি তাড়িত করছে।
দীর্ঘদিন ধরেই ছেলের নিষ্কৃতিমৃত্যুর দাবিতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। এর আগে দিল্লি হাইকোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। হাইকোর্টের যুক্তি ছিল, ফিডিং টিউব খুলে নেওয়া হলে তা ইচ্ছাকৃতভাবে মৃত্যুর কারণ হবে, যা আইন অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নয়। এরপরই শেষ ভরসা হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন হরীশের মা-বাবা। আপাতত চূড়ান্ত রায় স্থগিত রেখেছে শীর্ষ আদালত। তবে পুরো বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।