চিত্রঃ প্রতীকী
Bangla Jago Desk: উত্তরপ্রদেশের রামপুরে ভুয়ো পরিচয় দিয়ে কয়েক দশক ধরে স্কুলে শিক্ষকতা করার অভিযোগে এক পাকিস্তানি মহিলার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ওই মহিলার নাম মাহিরা আখতার ওরফে ফারজানা। প্রাথমিক শিক্ষা দফতরের দীর্ঘ অভ্যন্তরীণ তদন্তের পর উঠে এসেছে যে, মাহিরা আসলে একজন পাকিস্তানি নাগরিক এবং তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে জাল নথির সাহায্যে ভারতে বসবাস করছিলেন।
পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, মাহিরার জীবনের পরিক্রমা অত্যন্ত রহস্যময়। ১৯৭৯ সালে পাকিস্তানে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয় এবং সেই সূত্রে তিনি পাকিস্তানের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। তবে বিয়ের কয়েক বছর পর বিচ্ছেদ হয়ে গেলে তিনি ভারতে চলে আসেন। ১৯৮৫ সালে রামপুরের স্থানীয় এক ব্যক্তিকে বিয়ে করে পাকাপাকিভাবে সেখানে থাকতে শুরু করেন। অভিযোগ, সেই সময় থেকেই তিনি নিজেকে ভারতীয় হিসেবে দাবি করে জাল পরিচয়পত্র ও নথি তৈরি করেন এবং সরকারি স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি পান।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। রাজ্য প্রাথমিক শিক্ষা দফতর মাহিরাকে প্রথমে সাসপেন্ড এবং পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে। দফতরের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হলে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনুরাগ সিংহ জানিয়েছেন, ওই মহিলার সমস্ত নথি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কীভাবে তিনি এত বছর ধরে নিজের পরিচয় গোপন রাখতে সক্ষম হলেন, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।