ad
ad

Breaking News

Pune

মহারাষ্ট্রে দেদার বিকোচ্ছে ‘মেড ইন পাকিস্তান’ বেডশিট! তদন্তে নামল পুলিশের বিশেষ দল

এই ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে

Pune Woman Finds Made In Pakistan Label On Bedsheet

চিত্র- সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: ক’দিন আগেই মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে পাকিস্তানি প্রসাধনী সামগ্রী বিক্রির ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। সেই বিতর্ক থিতিয়ে যাওয়ার আগেই এবার পুণেতে সামনে এলো এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। মেলা থেকে কিনে আনা বিছানার চাদর কাচতে গিয়ে গৃহবধূ দেখলেন, তার ট্যাগে বড় বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে ‘মেড ইন পাকিস্তান’ (Made in Pakistan)! এই ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। কীভাবে পাকিস্তানের তৈরি পণ্য স্থানীয় বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT) গঠন করেছে পুলিশ। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বুধবার পুণের পিম্পরি-চিঞ্চাওয়াড় এলাকার বাসিন্দা এক গৃহবধূ মৌর্য গোসাভি মন্দির চত্বরে আয়োজিত ‘সংকষ্টি চতুর্থী মেলা’য় গিয়েছিলেন। সেখানে একটি কাপড়ের দোকান থেকে তিনি একটি বিছানার চাদর কেনেন।

বাড়ি ফিরে ব্যবহারের আগে নিয়মমাফিক চাদরটি ধুতে দেন তিনি। কিন্তু জলে ভেজানোর পর চাদরটি নিঙড়াতে গিয়েই তাঁর চোখ যায় ভেতরের একটি ট্যাগের ওপর। সেখানে স্পষ্ট অক্ষরে ‘মেড ইন পাকিস্তান’ লেখা দেখে কার্যত আকাশ থেকে পড়েন ওই গৃহবধূ। তড়িঘড়ি তিনি চাদরের ট্যাগের একটি ভিডিও তুলে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন এবং প্রশ্ন তোলেন, ভারতের স্থানীয় বাজারে কীভাবে পাকিস্তানি পণ্য দেদার বিকোচ্ছে? ভিডিওটি মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের নজরে আসে। ভিডিওটি ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন। ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে পিম্পরি-চিঞ্চাওয়াড় থানার পুলিশ দ্রুত স্বতঃস্ফূর্ত তদন্তে নামে। এই পণ্য কোথা থেকে এলো, তার উৎস সন্ধান করতে এবং এর পিছনে কোনও বড়সড় চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি, মেলা প্রাঙ্গণে ওই নির্দিষ্ট দোকানটিকে কারা বসার অনুমতি দিয়েছিল এবং মেলার ব্যবসায়ীদের সত্যতা যাচাই করা হয়েছিল কি না, তা জানতে চেয়ে স্থানীয় পুরসভাকে একটি কড়া চিঠি পাঠিয়েছে পুলিশ।

পুণের এই ঘটনার ঠিক তিনদিন আগে মহারাষ্ট্রেরই ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে (প্রাক্তন ঔরঙ্গাবাদ) হুবহু একই ধরণের ঘটনা ঘটেছিল। সেখানে একটি দোকানে সরাসরি পাকিস্তানে তৈরি প্রসাধনী বা কসমেটিক্স সামগ্রী বিক্রি করা হচ্ছিল। সেই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বর্তমান বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মাঝে, পর পর দুই জায়গায় এভাবে পাকিস্তানি সামগ্রী উদ্ধার হওয়াকে হালকাভাবে নিচ্ছেন না গোয়েন্দারা। কোন পথে, কোন আন্তর্জাতিক সীমান্ত বা চোরাপথ ব্যবহার করে এই সমস্ত পণ্য মহারাষ্ট্রের প্রত্যন্ত মেলা ও বাজারে পৌঁছে যাচ্ছে, তার সমস্ত সূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ আশাবাদী, ধৃতদের জেরা করে এবং মেলার সূত্র ধরে দ্রুত এই চক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।