ad
ad

Breaking News

Drone

ভারতের গুলিতে ভূপতিত হচ্ছে পাকিস্তানের ড্রোন, তা সত্ত্বেও পাক ড্রোন হানা কেন থামছে না?

গত মঙ্গলবার সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী জানিয়েছিলেন, নিয়ন্ত্রণরেখায় ড্রোন ওড়ানো নিয়ে পাকিস্তানকে সতর্ক করা হয়েছে।

pakistan-drone-incursion-loc-mystery-indian-army-response

চিত্রঃ সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গিহানার পর ভারতীয় সেনা পরিচালিত অপারেশন সিঁদুর এবং তার প্রত্যাঘাতের পর থেকে নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতেই পাকিস্তান ধারাবাহিকভাবে ভারতে ড্রোন পাঠাচ্ছে। ৯ জানুয়ারি থেকে জম্মু-কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখা ও আন্তর্জাতিক সীমান্তে অন্তত ১২ বার পাক ড্রোন হানা দিয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, আবার কি জম্মু-কাশ্মীরে বড়সড় হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, না কি পাকিস্তান জঙ্গি অনুপ্রবেশ ঘটাচ্ছে?

গত মঙ্গলবার সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী জানিয়েছিলেন, নিয়ন্ত্রণরেখায় ড্রোন ওড়ানো নিয়ে পাকিস্তানকে সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও বৃহস্পতিবার জম্মু-কাশ্মীরের পুঞ্চে নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে সন্দেহজনক একটি উড়ন্ত বস্তু দেখা যায়। সেনা সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দেগওয়ার এলাকায় ভারতীয় সেনার চৌকির কাছে ওই বস্তুটি দেখা যায়। প্রায় ৪০ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ার পরও সেটি ধ্বংস করা যায়নি। কিছুক্ষণ উড়ার পর ড্রোনটি নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে চলে যায়। 

সেনা সূত্র জানায়, এসব ড্রোন কামিকাজি নয়, বরং ছোট ড্রোন। বিস্ফোরকবিহীন এই ড্রোনগুলি অনেক নীচ দিয়ে উড়ে। সেনা আধিকারিকদের একাংশ মনে করছেন, হামলার উদ্দেশ্য থাকলে অন্য ধরনের ড্রোন পাঠানো হতো। তবে এই ড্রোনগুলোতে আলো জ্বলে, অর্থাৎ সহজেই চিহ্নিত করা যায়।

 বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ড্রোন পাঠানোর পিছনে তিনটি সম্ভাব্য উদ্দেশ্য রয়েছে: 

১. ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরীক্ষা: পাকিস্তান বোঝার চেষ্টা করছে ভারতের রাডার এবং ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা কতটা কার্যকর। কোন অঞ্চলে সেনার গতিবিধি বেশি, কোন সীমান্ত কতটা সংবেদনশীল—সবকিছু যাচাই করা হচ্ছে।

২. জঙ্গি অনুপ্রবেশের প্রয়াস: পাকিস্তান খুঁজছে নিয়ন্ত্রণরেখা ও আন্তর্জাতিক সীমান্তের কোন জায়গায় নিরাপত্তার ফাঁক রয়েছে। এই ফাঁক দিয়ে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ ঘটানো হতে পারে। তবে এখনও কোন প্রচেষ্টা সফল হয়নি।

৩. অস্ত্র ও সরবরাহ: অনেক সময় উপত্যকায় গা ঢাকা দিয়ে থাকা সন্ত্রাসবাদীদের জন্য অস্ত্র, ম্যাগাজিন, কার্তুজ বা ওষুধ সরবরাহের চেষ্টা করা হয়। সম্প্রতি এক ড্রোনকে গুলি করে নামানো হয়েছে, যার মধ্যে পাওয়া গেছে পিস্তল, ম্যাগাজিন, কার্তুজ এবং গ্রেনেড। যদিও বেশিরভাগ ড্রোনের ক্ষেত্রে সরবরাহ ছিল না, ফলে মূল লক্ষ্য অস্ত্র সরবরাহ নয় বলে মনে করছেন সেনার একাংশ।

এই ঘটনার ফলে সেনা ও সীমান্তে সতর্কতা আরও বাড়ানো হয়েছে। পাক ড্রোনের ক্রমাগত হানার মাধ্যমে ভারতে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন পাকিস্তান, যা ভারতীয় সেনার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।