চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ডেটা সেন্টার প্রকল্পের বিশাল খরচ সামলাতে সংকটে পড়েছে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি সংস্থা ওরাকল। এই আর্থিক চাপ সামাল দিতে সংস্থাটি প্রায় ৩০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে, যা ওরাকলের ইতিহাসের বৃহত্তম পুনর্গঠন প্রক্রিয়া হতে চলেছে। চলতি মাস থেকেই এই ছাঁটাই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেপ্টেম্বরের একটি ফাইলিংয়ে সংস্থাটি জানিয়েছে, এই ছাঁটাই এবং আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়ায় চলতি অর্থবর্ষে প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে, যার একটি বড় অংশ যাবে কর্মীদের বিচ্ছেদকালীন সুযোগ-সুবিধা বা সেভারেন্স পে আউটের জন্য।

টাইমসের খবর অনুযায়ী, একাধিক বিভাগের কর্মীদের সরিয়ে সেই জায়গায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করবে সংস্থাটি। বর্তমানে ওরাকল তাদের ক্লাউড ডিভিশনে নতুন নিয়োগ বন্ধ রেখেছে বা অত্যন্ত ধীরগতিতে করছে। এমনকি এই সপ্তাহে সংস্থার অভ্যন্তরীণভাবে খোলা চাকরির পদগুলো পুনরায় খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ল্যারি এলিসনের নেতৃত্বে প্রথাগত ডেটাবেস সফটওয়্যার সংস্থা থেকে আমাজন বা মাইক্রোসফটের মতো এআই ক্লাউড প্রতিযোগী হয়ে ওঠার এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যই বর্তমানে সংস্থার ওপর প্রবল আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে।
Oracle planning mass layoffs as AI spending turns cash flow negative: Report https://t.co/slOvyIqnNq
— Financial Express (@FinancialXpress) March 6, 2026
টিডি কাওয়েন-এর তথ্য অনুযায়ী, ওপেন এআই-এর সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব এবং এআই পরিকাঠামো গড়তে প্রায় ১৫৬ বিলিয়ন ডলার মূলধনী খরচ এবং ৩০ লক্ষ জিপিইউ-এর প্রয়োজন হতে পারে। এই বিপুল ব্যয়ভার বহন করতে ওরাকল গত দুই মাসেই ৫৮ বিলিয়ন ডলার নতুন ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে টেক্সাস ও উইসকনসিনে ডেটা সেন্টারের জন্য ৩৮ বিলিয়ন এবং নিউ মেক্সিকোর ক্যাম্পাসের জন্য ২০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে সংস্থার মোট ঋণের পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। ওয়াল স্ট্রিটের বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক বছর সংস্থার নগদ প্রবাহ নেতিবাচক থাকতে পারে এবং এই বিনিয়োগের সুফল ২০৩০ সালের আগে মেলার সম্ভাবনা কম।

আর্থিক সংকটের প্রভাব সরাসরি পড়েছে শেয়ার বাজারেও। ২০২৪ ও ২৫ সালে শেয়ারের দাম বাড়লেও, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের শিখর থেকে ওরাকলের শেয়ারের দর প্রায় ৫৪ শতাংশ পড়ে গিয়েছে। এর ফলে সংস্থার বাজারমূল্য প্রায় ৪৬৩ বিলিয়ন ডলার হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে, আর্থিক সংস্থান করতে সংস্থাটি চলতি বছরে ঋণ ও ইক্যুইটির মাধ্যমে ৫০ বিলিয়ন ডলার তোলার পরিকল্পনা করছে। এমনকি অর্থের প্রয়োজনে ২০২২ সালে ২৮.৩ বিলিয়ন ডলারে কেনা স্বাস্থ্য প্রযুক্তি সংস্থা সার্নার-কেও বিক্রি করে দেওয়ার পথ খুঁজছে ওরাকল।

টেক দুনিয়ায় এই ছাঁটাইয়ের ঢেউ কেবল ওরাকলেই সীমাবদ্ধ নয়। গত জানুয়ারিতে আমাজন ১৬ হাজার এবং গত বছর মাইক্রোসফট ১৫ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। সেলসফোর্স এবং ব্লক ইঙ্ক-এর মতো সংস্থাও একই পথে হেঁটেছে। ওরাকলের ক্ষেত্রে বিপুল ছাঁটাইয়ের ফলে প্রায় ৮ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার নগদ সাশ্রয় হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে, ব্যাংকগুলো ওরাকলের প্রজেক্টে অর্থায়নের ক্ষেত্রে সতর্ক হয়ে উঠছে এবং ঋণের সুদের হারও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংস্থাটি এখন নতুন গ্রাহকদের কাছ থেকে চুক্তির মূল্যের ৪০ শতাংশ পর্যন্ত অগ্রিম দাবি করছে। আগামী ১০ মার্চ ওরাকল তাদের তৃতীয় ত্রৈমাসিকের আর্থিক ফলাফল ঘোষণা করবে, যেদিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব।