ad
ad

Breaking News

Nyaya Setu

Nyaya Setu: আইনি পরামর্শ এবার হাতের মুঠোয়! কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ন্যায় সেতু’তে মিলবে ফ্রি ডিজিটাল টিপস

সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রাথমিক আইনি দিকনির্দেশনা পেতে পারেন

Nyaya Setu AI Legal Chatbot

চিত্রঃ সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: ভারতের বিচার ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হলো। আইনি পরামর্শ পাওয়ার জন্য এখন আর আইনজীবীর চেম্বারে ভিড় করার প্রয়োজন নেই। নতুন বছরের প্রথম দিনেই কেন্দ্রীয় আইন ও বিচার মন্ত্রক নাগরিকদের জন্য নিয়ে এসেছে ন্যায় সেতু নামক একটি বিশেষ পরিষেবা। এটি মূলত হোয়াটসঅ্যাপ ভিত্তিক একটি এআই চ্যাটবট, যার মাধ্যমে দেশের যে কোনো প্রান্তের মানুষ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রাথমিক আইনি দিকনির্দেশনা পেতে পারেন।

মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ইজ অফ জাস্টিস বা বিচার ব্যবস্থার সহজীকরণের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষ এখন কেবল একটি মেসেজের মাধ্যমেই তাদের আইনি সমস্যার সমাধান খুঁজতে পারবেন। এই পরিষেবাটি ব্যবহারের প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ। ব্যবহারকারীকে ৭২১৭৭১১৮১৪ নম্বরে একটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ করতে হবে। সেখানে মোবাইল নম্বর যাচাই করার পরেই প্রশ্ন করার সুযোগ মিলবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই চ্যাটবটটি মানুষের করা প্রশ্নের ওপর ভিত্তি করে সহজ ভাষায় আইনি তথ্য প্রদান করবে।

আইনজীবীদের মতে, ন্যায় সেতু ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় থাকায় মানুষ যে কোনো সময়ে পারিবারিক বিবাদ, সম্পত্তি সংক্রান্ত সমস্যা, বিবাহবিচ্ছেদ, সন্তানের হেফাজত বা কর্পোরেট আইন নিয়ে প্রাথমিক ধারণা নিতে পারবেন। বিশেষ করে ডিভোর্স বা গৃহহিংসার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে যারা সরাসরি আইনজীবীর কাছে যেতে ইতস্তত বোধ করেন, তারা এই গোপনীয় ও ডিজিটাল মাধ্যমের সুবিধা নিতে পারেন। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, এটি কোনো আদালতের বিকল্প বা চূড়ান্ত আইনি রায় নয়। এটি মূলত মানুষকে আইনি ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার একটি প্রাথমিক সেতু মাত্র।

এই প্রকল্পের অন্যতম বড় উদ্দেশ্য হলো আইনি সহায়তাকে সাধারণের নাগালে পৌঁছে দেওয়া। আগে অনেক মানুষকে লিগ্যাল সার্ভিস সেন্টারে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে তথ্যের জন্য অপেক্ষা করতে হতো। এখন ঘরে বসেই তারা জানতে পারবেন যে লিগাল সার্ভিসেস অথরিটিস অ্যাক্ট অনুযায়ী কারা বিনামূল্যে সরকারি আইনি সহায়তা পাওয়ার যোগ্য। প্রয়োজনে এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীকে তালিকাভুক্ত অভিজ্ঞ আইনজীবীদের সঙ্গেও যোগাযোগ করিয়ে দিতে পারে।

বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল বা প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকরী হবে বলে মনে করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে মানুষ নিজের অধিকার বা মামলার গুরুত্ব না বুঝেই আইনি লড়াইয়ে নেমে পড়েন। ন্যায় সেতু তাদের সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। আদালত বা পেশাদার আইনজীবীর সরাসরি বিকল্প না হলেও, সাধারণ নাগরিক ও বিচার ব্যবস্থার মধ্যেকার দূরত্ব কমাতে এই ডিজিটাল সেতু এক নতুন দিশা দেখাবে।