চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: হাড়কাঁপানো ঠান্ডার দাপটে কার্যত থমকে গিয়েছে রাজধানী দিল্লি সহ উত্তর ভারতের জনজীবন। আবহাওয়া দপ্তরের রেকর্ড অনুযায়ী, মঙ্গলবার দিল্লির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে গিয়েছে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৪.৪ ডিগ্রি কম। এর আগের দিন অর্থাৎ সোমবারও পারদ ৩.২ ডিগ্রিতে থমকে ছিল। তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে ঘন কুয়াশা এবং বায়ুদূষণের জোড়া ফলায় নাজেহাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় লাল সতর্কতা বা রেড অ্যালার্ট জারি করেছে মৌসম ভবন। উত্তর ভারতের বেশ কিছু জায়গায় পারদ হিমাঙ্কের নিচে নেমে যাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত। মঙ্গলবার পাঞ্জাবের ভাতিন্ডায় তাপমাত্রা ছিল মাত্র ০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং অমৃতসরে ১ ডিগ্রি। হরিয়ানার অধিকাংশ এলাকাতেও তাপমাত্রা ১ ডিগ্রির আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা রাজস্থানের, সেখানে তাপমাত্রা মাইনাস ১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। তীব্র কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় দিল্লি এবং পার্শ্ববর্তী এনসিআর এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে রেল এবং বিমান পরিষেবার ওপর। দৃশ্যমানতা কম থাকায় একাধিক ট্রেন এবং বিমানের সময়সূচী পরিবর্তন করতে হয়েছে। অন্যদিকে, এই দীর্ঘস্থায়ী কনকনে ঠান্ডায় শীতকালীন ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। বিশেষ করে সব্জি চাষের ক্ষেত্রে হাড়কাঁপানো উত্তুরে হাওয়া উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত উত্তর ভারত জুড়ে হলুদ সতর্কতা বজায় থাকবে। আপাতত কয়েক দিন এই হাড়কাঁপানো ঠান্ডা ও কুয়াশার দাপট চলবে। তবে ১৭ তারিখের পর থেকে তাপমাত্রার সামান্য উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আপাতত হাড়কাঁপানো শীত আর কুয়াশার চাদরে ঢাকা উত্তর ভারতের বাসিন্দাদের চরম সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।