চিত্র- AI
Bangla jago Desk: দেশে ডাক্তারির স্নাতকোত্তরে ভর্তির প্রবেশিকা পরীক্ষা বা নিট পিজি-র কাট-অফ পার্সেন্টাইল কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে এমডি ও এমএস কোর্সে ভর্তির ক্ষেত্রে যোগ্যতার মানদণ্ড হঠাৎ অনেকটা কমিয়ে দেওয়ার যে নির্দেশিকা ন্যাশনাল বোর্ড অফ এগজামিনেশন ইন মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এনবিইএমএস) জারি করেছিল, তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই শুক্রবার কেন্দ্রীয় সরকার, এনবিইএমএস এবং ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশনকে (এনএমসি) নোটিস পাঠাল শীর্ষ আদালত। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে এই বিষয়ে হলফনামা দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বলা হয়েছে।
মূলত দুই দফার কাউন্সেলিং শেষ হওয়ার পরেও দেখা গিয়েছে যে, দেশের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে প্রায় ১৮ হাজার আসন খালি পড়ে আছে। এই শূন্যপদের তালিকায় সিংহভাগই বেসরকারি কলেজের আসন। পর্যাপ্ত ছাত্রছাত্রী না মেলায় সেই শূন্যস্থান পূরণের লক্ষ্যেই এনবিইএমএস কাট-অফ নম্বর অস্বাভাবিকভাবে কমানোর পথে হাঁটে। তবে এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই বিতর্কের সূত্রপাত। আবেদনকারীদের অভিযোগ, এভাবে যোগ্যতার মানদণ্ড কমিয়ে দিলে চিকিৎসার গুণমান প্রভাবিত হতে পারে।
মেধাতালিকা প্রকাশের সময় জেনারেল ক্যাটেগরির জন্য কাট-অফ নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫০ পার্সেন্টাইল (২৭৬ নম্বর)। একইভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য ৪৫ পার্সেন্টাইল (২৫৫ নম্বর) এবং তফসিলি জাতি, উপজাতি ও ওবিসিদের জন্য ৪০ পার্সেন্টাইল (২৩৫ নম্বর) ধার্য ছিল। কিন্তু আসন খালি থাকার কারণ দেখিয়ে গত ১৩ জানুয়ারি এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই মাপকাঠি আমূল বদলে দেয় এনবিইএমএস। নতুন নির্দেশে জানানো হয়, তৃতীয় দফার কাউন্সেলিংয়ে জেনারেল ক্যাটেগরির কাট-অফ কমিয়ে ৭ পার্সেন্টাইল (১০৩ নম্বর) করা হয়েছে। বিশেষভাবে সক্ষমদের ক্ষেত্রে তা কমিয়ে করা হয়েছে মাত্র ৫ পার্সেন্টাইল বা ৯০ নম্বর।
সবচেয়ে চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সংরক্ষিত শ্রেণির ক্ষেত্রে। তফসিলি জাতি, উপজাতি ও ওবিসি পরীক্ষার্থীদের জন্য কাট-অফ পার্সেন্টাইল নামিয়ে আনা হয়েছে শূন্যতে। অর্থাৎ মাইনাস ৪০ নম্বর পাওয়া পরীক্ষার্থীরাও এখন স্নাতকোত্তরে ভর্তির সুযোগ পেতে পারেন। এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে আদালতে। শীর্ষ আদালত এখন কেন্দ্রের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে, যার ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হবে ডাক্তারির এই উচ্চশিক্ষার ভর্তির ভবিষ্যৎ।