চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: অজিত পওয়ারের অকাল মৃত্যু পরের দিন থেকেই এনসিপির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। কিন্তু এখন সেই আলোচনা কি ভেস্তে গেল? মারাঠা শক্তিমান নেতা শরদ পওয়ারের ভাষ্য থেকে এমনই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। শরদ দাবি করেছেন, সুনেত্রা পওয়ারের শপথ গ্রহণ বা উপমুখ্যমন্ত্রী হওয়ার বিষয়ে তিনি আগে কিছুই জানতেন না। সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে সব জানতে পারেন তিনি। পরিবারে এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলেও জানান শরদ।
বুধবার সকালে বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পওয়ারের মৃত্যু ঘটে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দলীয় ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় পড়ে এনসিপি। সূত্রের খবর, এনসিপির ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট প্রফুল প্যাটেল ও অন্যান্য নেতারা আলাদা করে সুনেত্রার সঙ্গে কথা বলেন। সেই বৈঠকের পরই সিদ্ধান্ত হয়, অজিতের অনুপস্থিতিতে উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সুনেত্রাকেই নেওয়া হবে। এনসিপি চাইছে, পওয়ারদের ঘাঁটি বারামতি থেকেই সুনেত্রাকে প্রার্থী করা হোক। অজিত বারামতি থেকেই সাতবার বিধায়ক হয়েছিলেন।
এদিকে এনসিপির দুই শিবিরের পুনর্মিলন নিয়েও আলোচনা চলছিল। সম্প্রতি পিম্পরি-চিঁচওয়াড় ও পুণের পুরসভায় দুই শিবির একত্রে লড়াই করলেও আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়নি। তবে তা ছিল জোট হিসেবে। সব ঠিক থাকলে মহারাষ্ট্র জেলা পরিষদের নির্বাচনেও একই প্রতীকে যৌথভাবে লড়াই করার কথা ছিল। পরিকল্পনা ছিল, আলাদা প্রতীকে নয়—দুই শিবিরের প্রার্থীরাই অজিতের এনসিপির ‘ঘড়ি’ প্রতীকে লড়বে। জানা গেছে, পর্দার আড়ালে কাকা শরদ পওয়ারের দল এনসিপি (শরদচন্দ্র পওয়ার) এবং এনসিপি মিলিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে সিলমোহর দিয়েছিলেন অজিত। জেলা পরিষদের ফল ঘোষণার পর ৮ ফেব্রুয়ারি দুই শিবিরের পুনর্মিলন ঘোষণা করার কথাও ছিল। কিন্তু অজিতের মৃত্যুর পর সেই পরিকল্পনা কি বাতিল হয়ে গেল?
অজিত বেঁচে থাকলে ঐক্যবদ্ধ এনসিপির নেতা হওয়ার ক্ষেত্রে তিনিই সবার সামনে থাকতেন, এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর তা কার হাতে যাবে—এ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। এনসিপির অন্দরে অনেকেই মনে করছিলেন প্রবীণ পওয়ার বা তাঁর মেয়ে সুপ্রিয়া ঐক্যবদ্ধ এনসিপির দায়িত্ব নেওয়া উচিত। কিন্তু সেই অবস্থায় সুনেত্রা উপমুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন—এটাই প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। শরদের দাবি, এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। অর্থাৎ সুনেত্রারা কি শরদের নেতৃত্ব মানতে চান না? তাহলে আদৌ দুই শিবিরের পুনর্মিলন হবে কি না—এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।