ad
ad

Breaking News

MP Congress MLA Rape Remark

“সুন্দরী মহিলা দেখলেই ধর্ষণের ইচ্ছা জাগে পুরুষদের”- বিস্ফোরক মন্তব্য কংগ্রেস বিধায়কের

ভারতে ধর্ষণের শিকার হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন এই পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীর মহিলারাই।

MP Congress MLA Rape Remark

চিত্রঃ সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় কোনও পুরুষ যদি একজন সুন্দরী মহিলাকে দেখেন, তাহলে তাঁর মনোযোগ বিচ্যুত হতে পারে এবং সেখান থেকেই ধর্ষণের মতো অপরাধ ঘটতে পারে—দেশে ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধির এমনই ব্যাখ্যা দিয়ে তীব্র বিতর্কে জড়ালেন মধ্যপ্রদেশের ভান্ডের কেন্দ্রের কংগ্রেস বিধায়ক ফুল সিংহ বরইয়া। তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে প্রবল প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ধর্ষণ প্রসঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে নিজের মতামত তুলে ধরেন বরইয়া। সেখানে তিনি শুধু ‘সুন্দরী নারী’-র প্রসঙ্গই তোলেননি, পাশাপাশি তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির মহিলাদের নিয়েও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, ভারতে ধর্ষণের শিকার হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন এই পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীর মহিলারাই।

বরইয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, এসসি, এসটি ও ওবিসি সম্প্রদায়ের মহিলাদের ধর্ষণের পেছনে একটি তথাকথিত ‘পুণ্যলাভের তত্ত্ব’ কাজ করে। তিনি দাবি করেন, প্রাচীন কিছু পুঁথিতে নাকি লেখা রয়েছে যে এই সম্প্রদায়ের কোনও মহিলার সঙ্গে সঙ্গম করলে তীর্থযাত্রার সমান পুণ্য অর্জন করা যায়। তাঁর যুক্তি, যাঁরা তীর্থে যেতে পারেন না, তাঁদের কাছে পুণ্য অর্জনের বিকল্প হিসেবে এই ভয়াবহ মানসিকতা কাজ করে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ধর্ষণের আর একটি ব্যাখ্যা হল নারীর সৌন্দর্য। তাঁর মতে, যে কোনও মানসিক অবস্থায় থাকা পুরুষ রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় যদি কোনও সুন্দরী মহিলাকে দেখেন, তবে তাঁর মন বিভ্রান্ত হতে পারে এবং সেখান থেকেই ধর্ষণের মতো অপরাধ সংঘটিত হতে পারে। এখানেই থামেননি বরইয়া। তিনি আরও দাবি করেন, এসসি, এসটি বা ওবিসি সম্প্রদায়ের মহিলারা সাধারণত সুন্দরী নন, তা সত্ত্বেও তাঁদের উপর ধর্ষণ হয় শুধুমাত্র ওই তথাকথিত ধর্মীয় নিদানের কারণে।

বরইয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, এই বিকৃত মানসিকতার ফলেই শুধু প্রাপ্তবয়স্ক নয়, চার মাস কিংবা এক বছরের শিশুরাও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। তাঁর এই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় ওঠে।এই বিতর্কের জেরে মধ্যপ্রদেশের রাজনীতিতেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। কংগ্রেস নেতৃত্ব প্রকাশ্যে বিধায়কের মন্তব্য থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিয়েছে। রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি জিতু পটওয়ারি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ধর্ষণের কোনও ব্যাখ্যা বা যুক্তি হতে পারে না। তাঁর কথায়, ধর্ষণ একটি গুরুতর অপরাধ এবং অপরাধী যিনি, তাঁর কোনও জাত বা ধর্ম হতে পারে না। অন্যদিকে, বিজেপিও এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছে। রাজ্যের বিজেপি নেতা আশিস আগরওয়াল বলেছেন, নারীর সৌন্দর্য দিয়ে তাঁকে বিচার করা এবং দলিত ও আদিবাসী মহিলাদের উপর সংঘটিত নির্যাতনকে পবিত্র কাজ হিসেবে তুলে ধরা মানবতা ও সংবিধানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।