চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: শনিবার মিজোরামের রেল ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আইজল বিমানবন্দর থেকে ভৈরবী–সাইরাং রেলপথের উদ্বোধন করেন। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো মিজোরাম সরাসরি যুক্ত হল ভারতের অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে রেল যোগাযোগে। বর্ষণমুখর সকালে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত থাকতে না পারলেও, বিমানবন্দর থেকেই এই প্রকল্পের সূচনা করেন তিনি। উদ্বোধনের পাশাপাশি মোদি বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, যেখানে ভোট, সেখানেই নজর। অন্যথায় কোনও কিছুর গুরুত্ব নেই তাদের কাছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, বহু বছর ধরে কিছু রাজনৈতিক দল শুধুমাত্র ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করেছে এবং সেই কারণেই মিজোরাম সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তিনি জানান, বিজেপির নীতি আলাদা – আগে অবহেলিত অঞ্চলগুলোকেই এখন সামনের সারিতে আনছি (Mizoram Railway)।
আরও পড়ুনঃ BCCI President: বিসিসিআইয়ের নতুন সভাপতির দৌড়ে রয়েছেন ভাজ্জিও?
যাদের দূরে সরিয়ে রাখা হত, তারাই এখন মূলধারায় যুক্ত হচ্ছে। এদিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালডুহোমা, রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব প্রমুখরা। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর উত্তর-পূর্ব সফর নিয়ে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধি কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, দু’বছর পরে অবশেষে মণিপুরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আরও আগেই সেখানে যাওয়া উচিত ছিল। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে তিনি এতদিন সংঘর্ষ চলতে দিয়েছেন। স্বাধীনতার পর থেকে যে দলেরই হোক, মানুষের দুঃখে পাশে থাকার ইতিহাস সব প্রধানমন্ত্রীই রেখেছেন।রেল প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আইজল থেকে দিল্লির মধ্যে চালু হয়েছে রাজ্যের প্রথম রাজধানী এক্সপ্রেস – সাইরাং–দিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেস। সেইসঙ্গে প্রকল্পের জেরে রেলপথে জুড়ে গেল কলকাতা-মিজোরাম। ট্রেন নম্বর ১৩১২৫ কলকাতা-সাইরং এক্সপ্রেস সপ্তাহে তিনবার চলবে। রবিবার, বুধবার এবং বৃহস্পতিবার (Mizoram Railway)।
Bangla Jago fb page: https://www.facebook.com/share/17CxRSHVAJ/
এদিকে, ট্রেন নম্বর ১৩১২৬ সাইরং-কলকাতা এক্সপ্রেস সোমবার, বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার চলবে। সাইরং-কলকাতা-সাইরং এক্সপ্রেস ২২টি কোচ নিয়ে গঠিত। ২টি এসি টু টায়ার, ৫টি এসি থ্রি টায়ার, ২টি এসি থ্রি-টায়ার ইকোনমি, ৭টি স্লিপার ক্লাস, ৪টি জেনারেল সেকেন্ড ক্লাস, ব্রেক, ১টি লাগেজ কাম জেনারেটর কার এবং ১টি এসএলআরডি। ভৈরবী–সাইরাং রেল প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮,০৭০ কোটি টাকা। এই রুটে রয়েছে ৪৫টি সুরঙ্গ এবং ১৪২টি সেতু। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ১৪৪ নম্বর সেতুটি, যা ১১৪ মিটার উঁচু এবং কুতুব মিনারের থেকেও উঁচু। মিজোরামের রেল সংযোগ ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার ফলে অর্থনীতি, পর্যটন এবং উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে (Mizoram Railway)।