চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ঋতুকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করলে মহিলাদের নিয়োগে অনীহা বাড়তে পারে—সম্প্রতি দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এমন পর্যবেক্ষণের পরেও এক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কর্নাটক হাইকোর্ট। আদালত জানিয়ে দিল, কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের স্বাচ্ছন্দ্য ও শারীরিক বাস্তবতাকে সম্মান জানিয়ে রাজ্যের সরকারি, বেসরকারি ও অসংগঠিত—সব ক্ষেত্রেই ঋতুকালীন ছুটি বা ‘মেনস্ট্রুয়াল লিভ’ কার্যকর করতে হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, কর্নাটক সরকারের প্রস্তাবিত মেনস্ট্রুয়াল লিভ আইন এবার বাধ্যতামূলকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত বছর অক্টোবর মাসেই কর্নাটক সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, রাজ্যের মহিলা কর্মীরা মাসে এক দিন করে সবেতন ঋতুকালীন ছুটি পাবেন। এই নিয়ম সরকারি দপ্তর থেকে শুরু করে বেসরকারি সংস্থা, বহুজাতিক সংস্থা এবং তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে বলে ঘোষণা করেছিল সরকার। তবে মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব পাশ হলেও এখনও পর্যন্ত বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। এই প্রেক্ষিতেই বুধবার কর্নাটক হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণকে ঐতিহাসিক বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। আদালত জানায়, নারী ও পুরুষ আইনের চোখে সমান হলেও তাঁদের জৈবিক বাস্তবতা আলাদা। সেই বাস্তবতাকে সম্মান জানানোই প্রকৃত সমতা। আদালতের আরও পর্যবেক্ষণ, সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদে সমতার অধিকার দেওয়া হলেও জৈবিক পার্থক্যকে স্বীকৃতি দেওয়া মানে সাম্যের অবমাননা নয়। বরং সেটিই মানবিক ও বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি।
আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ঋতুকালীন ছুটি কোনও অতিরিক্ত সুবিধা বা ‘প্রিভিলেজ’ নয়। এটি মহিলাদের মর্যাদা, স্বাস্থ্য এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থার প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। বিশেষ করে অসংগঠিত ক্ষেত্রের প্রসঙ্গ তুলে আদালত জানিয়েছে, দৈনিক মজুরি কিংবা কায়িক শ্রমনির্ভর কাজে যুক্ত মহিলাদের ক্ষেত্রে এই ছুটি আরও বেশি জরুরি। কারণ এই ধরনের কর্মক্ষেত্রে ন্যূনতম পরিচ্ছন্নতার মান বজায় থাকে না, ফলে ঋতুকালীন সময়ে কাজ করা অনেক সময় শারীরিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
প্রসঙ্গত, দেশে ঋতুকালীন ছুটি নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। বিহারে ১৯৯২ সাল থেকেই মাসে দু’দিন করে ঋতুকালীন ছুটির নিয়ম চালু রয়েছে। কেরলের সরকারি স্কুলগুলিতে ছাত্রীদের জন্যও এই ছুটির ব্যবস্থা রয়েছে। ২০২৪ সালে ওড়িশা সরকার মহিলা কর্মীদের মাসে এক দিন করে ঋতুকালীন ছুটির সিদ্ধান্ত নেয়। কর্নাটকও সেই পথে হাঁটলেও এখনও পর্যন্ত আইন কার্যকর না হওয়ায় এবার হাই কোর্ট কঠোর অবস্থান নিল। আদালতের নির্দেশের পর রাজ্য সরকারকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করে আইন কার্যকর করতে হবে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও অধিকার রক্ষায় এই নির্দেশকে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে মনে করছেন অনেকে।