Bangla Jago Desk: মেঘালয়ের তাসখাই এলাকায় একটি কয়লাখনিতে ভয়াবহ ধস ও বিস্ফোরণের ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এখনও কয়েকজন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। প্রশাসনের আশঙ্কা, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বিস্ফোরণের পরপরই খনির মুখ থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে তোলে।
প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বিস্ফোরণটি খনির ভেতরেই ঘটে। সেই সময় বেশ কয়েকজন শ্রমিক নিচে নেমে কাজ করছিলেন। আচমকাই বিস্ফোরণের জেরে খনির ভিতরে ধস নামে। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, মৃত শ্রমিকদের মধ্যে বেশির ভাগই অসমের বাসিন্দা।
ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উদ্ধারকাজ শুরু করে মেঘালয় পুলিশ। তাদের সঙ্গে রয়েছে দমকল বাহিনী ও বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সদস্যরা। খনির ভিতরে আর কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ভিতরের পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সতর্কতার সঙ্গে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে।
বিস্ফোরণের পর খনিমুখের সামনে তৈরি হয় চরম আতঙ্কের পরিস্থিতি। চারদিকে ছাই ও ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এলাকা। শ্রমিকরা আতঙ্কে ছুটোছুটি করতে থাকেন। ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, খনি থেকে গলগল করে কালো ধোঁয়া বেরোচ্ছে, চারদিকে কান্না ও চিৎকারের শব্দ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মৃতদের মধ্যে অন্তত একজনের বাড়ি অসমের কথিগড়া এলাকার বিহারা গ্রামে বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে ঠিক কতজন অসমের শ্রমিক এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। পরিচয় যাচাইয়ের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
মেঘালয় পুলিশের এক আধিকারিক জানান, “উদ্ধারকাজ এখনও চলছে। খনির ভিতরে গ্যাস জমে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। আবারও বিস্ফোরণ হতে পারে কি না, সে বিষয়টি মাথায় রেখেই অত্যন্ত সাবধানে কাজ করতে হচ্ছে।”
বিস্ফোরণের কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, খনির ভিতরে দাহ্য গ্যাস জমে থাকা অথবা অবৈধভাবে বিস্ফোরক ব্যবহারের ফলেই এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
মৃত শ্রমিকদের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। আহত কেউ থাকলে তাঁদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



