গ্রাফিক্স: নিজস্ব
Bangla Jago Desk: মঙ্গলবার সকালে অমৃতসরের মাজিতা রোড বাইপাস এলাকায় আচমকা এক তীব্র বিস্ফোরণের শব্দে চাঞ্চল্য ছড়ায়। সঙ্গে সঙ্গে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন পাঞ্জাব পুলিশের ডিআইজি সতিন্দর সিং। ডিআইজি জানিয়েছেন, বিস্ফোরণে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন বাবর খালসার সক্রিয় সদস্য। তিনি এলাকায় বিস্ফোরক রেখে নাশকতার ছক কষছিলেন, সেই সময়ই বিস্ফোরণ ঘটে এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রের অনুমান, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর মদতপুষ্ট খালসা জঙ্গিরাই এই নাশকতার পিছনে রয়েছে।
তাদের উদ্দেশ্য ছিল ভারতের অভ্যন্তরে ফের অস্থিরতা সৃষ্টি করা। অন্যদিকে সোমবার আরেকটি অভিযানে, বিএসএফ সৈন্যরা অমৃতসর জেলার টিব্বি গ্রামের কাছের ক্ষেত থেকে ৯৫৭ গ্রাম ওজনের সন্দেহভাজন হেরোইনের দুটি প্যাকেট উদ্ধার করেছে। সেইসময় স্থানীয় পুলিশের তরফে জানান হয়েছিল, মাদকদ্রব্যগুলি হলুদ আঠালো টেপ দিয়ে মোড়ানো ছিল এবং প্যাকেটের সাথে একটি টর্চ সহ ধাতব লুপ লাগানো পাওয়া গেছে।
প্রসঙ্গত, ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান ২৬ জন। সেই হামলায় ধর্মীয়ভাবে নিরীহ মানুষকে নিশানা করেছিল জঙ্গিরা, যাদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন পর্যটক। তার পালটা হিসাবে ৭ মে ভারত চালায় ‘অপারেশন সিঁদুর’, যেখানে পাকিস্তান ও পাক-অধীকৃত কাশ্মীরের ৯টি সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এই পাল্টা পদক্ষেপের পর থেকেই সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ে। পাকিস্তানের তরফে শুরু হয় গুজরাট থেকে কাশ্মীর পর্যন্ত ড্রোন হামলার চেষ্টা, যদিও ভারতীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ হামলা ব্যর্থ করে দেয়। সেইসঙ্গে ভারত পাক যুদ্ধে অশান্ত হয়ে উঠেছিল পঞ্জাব।
পাকিস্তান ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন দ্বারা বারবার ক্ষতি করার চেষ্টা করেছিল পঞ্জাবের। কিছুদিন আগে সেনাবাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কর্তা জানিয়েছিলেন পাকিস্তানের লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল অমৃতসরের স্বর্ণমন্দির। ভারত-পাক যুদ্ধ বন্ধ হলেও উত্তেজনা কিছুটা হলেও প্রশমিত হয়েছে। এরমধ্যেই অমৃতসরের বিস্ফোরণ ফের একবার দেশের অভ্যন্তরে জঙ্গি অনুপ্রবেশ ও নাশকতার আশঙ্কা জোরদার করল। তাতেই প্রশ্ন উঠছে, এত কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও কীভাবে বিস্ফোরক এসে পৌঁছাচ্ছে জঙ্গিদের হাতে? পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্ত জোরদার করেছে। ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সামনে আবারও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে সীমান্তপারের জঙ্গি তৎপরতা ও দেশীয় মদতপুষ্ট নাশকতা।