চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: দাম্পত্য জীবনে স্ত্রীর বিশ্বস্ততা নিয়ে ক্রমাগত সন্দেহ পোষণ, তাঁর গতিবিধির উপর কঠোর নজরদারি এবং পেশা ছাড়তে বাধ্য করার ঘটনাকে মারাত্মক মানসিক নিষ্ঠুরতা হিসেবে গণ্য করে সম্প্রতি এক যুগান্তকারী রায় দিল কেরালা হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সন্দেহপ্রবণ স্বামীর আচরণ দাম্পত্য জীবনকে ‘জীবন্ত নরকে’ পরিণত করতে পারে। এই রায়ের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদের জন্য আবেদনকারী এক নার্সকে তার স্বামীর কাছ থেকে বিবাহবিচ্ছেদ মঞ্জুর করা হয়েছে। বিচারপতি দেভান রামচন্দ্রন এবং বিচারপতি এমবি স্নেহলতা-কে নিয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলায় পারিবারিক আদালতের পূর্ববর্তী রায় খারিজ করে দেয়। আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানায়, পারস্পরিক বিশ্বাস, মর্যাদা এবং মানসিক নিরাপত্তা—এই তিনটি স্তম্ভের উপরই বিবাহ টিকে থাকে, যা কোনো পরিস্থিতিতেই ক্ষুণ্ণ করা উচিত নয় (Kerala)।
Husband restricting wife’s movements, forcing her to resign from job amount to cruelty: Kerala High Court
Read judgment: https://t.co/mwfuTJnais pic.twitter.com/LBsJriOUpF
— Bar and Bench (@barandbench) October 27, 2025
আদালত এই ধরনের সন্দেহপ্রবণ আচরণের তীব্র নিন্দা করে বলেছে, যে স্বামী অভ্যাসবশত স্ত্রীর প্রতি অবিশ্বস্ততার সন্দেহ পোষণ করেন, তিনি কেবল স্ত্রীর আত্মসম্মানই নষ্ট করেন না, তাঁর মানসিক শান্তিও কেড়ে নেন। রায়ে বলা হয়, “পারস্পরিক বিশ্বাসই বিবাহের আত্মা; যখন এর স্থান দখল করে সন্দেহ, তখন সম্পর্কের সব অর্থ বিলুপ্ত হয়।” আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেছে যে, জীবনসঙ্গীর ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, যেমন—তাঁর চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করা বা জোর করে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা, দীর্ঘস্থায়ী মনস্তাত্ত্বিক ক্ষতি করে এবং আইনের চোখে তা নিঃসন্দেহে নিষ্ঠুরতা। এই ক্ষেত্রে ওই নার্সকে শুধু মানসিক যন্ত্রণা নয়, নিজের পেশা ছেড়ে দিতেও বাধ্য করা হয়েছিল, এবং তাঁকে প্রতিনিয়ত নজরদারি ও অপমানের শিকার হতে হয়েছে (Kerala)।
Bangla Jago fb page: https://www.facebook.com/share/17CxRSHVAJ/
কেরালা হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্ত সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ দ্বারা নিশ্চিত মৌলিক অধিকার—বিবাহ সংক্রান্ত নিষ্ঠুরতা থেকে মুক্ত জীবন যাপনের অধিকার—সকল ধর্মের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য বলে পুনর্বার প্রতিষ্ঠা করল। আদালত জোর দিয়ে বলেছে, মানসিক নির্যাতনের ক্ষেত্রে আদালত নথিগত প্রমাণের জন্য জোর দিতে পারে না; বিশ্বাসযোগ্য এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ সাক্ষ্যই যথেষ্ট। বিচারপতি স্নেহলতা উল্লেখ করেন যে, নজরদারি, অপমান এবং স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া—এগুলি সমসাময়িক যুগের নিষ্ঠুরতার মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়, যা রাজ তালরেজা বনাম কবিতা তালরেজা এবং রূপা সোনি বনাম কমলনারায়ণ সোনি-এর মতো আধুনিক মামলাগুলিতে স্বীকৃত হয়েছে (Kerala)।