চিত্রঃ সংগৃহীত
AK Bangla 24×7 Digital: মহারাষ্ট্রজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে কড়া পদক্ষেপ শুরু করেছে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)। পাইকারি বিক্রেতা, উৎপাদক, খুচরো বিক্রেতা এবং রেস্তরাঁর পাশাপাশি এ বার নজরে এসেছে কুইক-কমার্স সংস্থাগুলির সঙ্গে যুক্ত খাদ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহ কেন্দ্রগুলিও। অভিযান চালিয়ে ব্লিঙ্কিট, জ়েপ্টো এবং ইনস্টামার্ট-সহ একাধিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত মোট ১৪টি প্রতিষ্ঠানের এফএসএসএআই লাইসেন্স স্থগিত করেছে মহারাষ্ট্র এফডিএ।
আইএএস আধিকারিক তুকারাম মুন্ঢে এফডিএ-র কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছে সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় কুইক-কমার্সের মাধ্যমে খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণ, বিক্রি ও সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ৮৬টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। সেখানেই একাধিক গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে। ১৪টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত করার পাশাপাশি মোট ৬০টি নোটিস জারি করা হয়েছে। একটি কেন্দ্রের কার্যক্রমও সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
লাইসেন্স স্থগিত হওয়া ১৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাঁচটি ব্লিঙ্কিট, পাঁচটি জেপ্টো এবং দু’টি ইনস্টামার্টের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গিয়েছে। পরিদর্শনে কোথাও নির্ধারিত তাপমাত্রার চেয়ে বেশি তাপমাত্রায় ‘চিলার রুম’ চালানোর অভিযোগ উঠেছে, কোথাও আবার খাদ্য ব্যবস্থাপনার কাজে যুক্ত কর্মীদের স্বাস্থ্যপরীক্ষার নথি পাওয়া যায়নি। প্রায় ৪০ জন কর্মীর স্বাস্থ্যপরীক্ষার প্রয়োজনীয় নথিপত্র না থাকার অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি কর্মীদের একাংশকে মাথার টুপি, অ্যাপ্রন ও গ্লাভস ছাড়াই কাজ করতে দেখা গিয়েছে বলে জানিয়েছে এফডিএ।
মুম্বইয়ের ঘাটকোপার এলাকার একটি কেন্দ্রে একাধিক অনিয়ম নজরে আসে। সেখানে অপর্যাপ্ত নিষ্কাশন ও বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থা, হিমায়িত খাদ্যপণ্যের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা এবং খোলা বা প্যাকেটবিহীন খাবার রাখার জায়গায় পর্যাপ্ত আলোর অভাব ধরা পড়ে। পুণের লোহেগাঁওয়ের একটি কেন্দ্রেও খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ পাওয়া যায়। সেখানে নির্ধারিত মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া কিছু খাদ্যপণ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। সেই কারণে ওই কেন্দ্রের এফএসএসএআই লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে।
অন্য দিকে, মুম্বইয়ের বান্দ্রা পশ্চিমের হিল রোডে একটি কেন্দ্রে পরিদর্শনের সময় খাদ্যপণ্যের প্যাকেটের পাশেই প্রচুর পরিমাণে ইঁদুরের মল দেখতে পাওয়ার অভিযোগ করেছেন এফডিএ আধিকারিকেরা। এই ঘটনায় খাদ্য সংরক্ষণ ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।