চিত্র- প্রতীকী
Bangla Jago Desk: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই ভারতের জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে এল এলপিজি ট্যাঙ্কার ‘শিবালিক’। সোমবার গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দরে জাহাজটি নোঙর করার পর থেকেই জ্বালানি সংকটে ধুঁকতে থাকা ভারতের বাজারে আশার আলো দেখা দিয়েছে। ভারতের এই সাফল্যের পেছনে পর্দার আড়ালের দীর্ঘ কূটনৈতিক লড়াইকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালী ইরানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে হাহাকার শুরু হয়েছিল। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, পশ্চিম এশিয়া থেকে এক ফোঁটা তেলও বাইরে যেতে দেওয়া হবে না। রাশিয়া ও চীনকে ছাড়পত্র দিলেও শুরুতে ভারতকে এই সুবিধা দেয়নি ইরান। ফলে দেশের অভ্যন্তরে রান্নার গ্যাস ও বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের জোগানে টান পড়ার পাশাপাশি হু হু করে বাড়তে থাকে দাম।
এই সংকট নিরসনে সরাসরি ময়দানে নামেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গত বৃহস্পতিবার তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেসিকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। একইসঙ্গে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর গত দুই সপ্তাহে চারবার বৈঠক করেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী সইদ আব্বাস আরাঘাচির সঙ্গে। এই ধারাবাহিক আলোচনার ফলেই শেষ পর্যন্ত বরফ গলেছে এবং ভারত ‘কূটনৈতিক ছাড়পত্র’ পেয়েছে। বর্তমানে ‘শিবালিক’ বন্দরে পৌঁছালেও দ্বিতীয় ট্যাঙ্কার ‘নন্দা দেবী’ও ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। মঙ্গলবারই সেটি মুম্বই বন্দরে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই দুটি জাহাজে করে আনুমানিক ৯২ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন গ্যাস দেশে আসছে, যা বর্তমানের তীব্র সংকটের বাজারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে স্বস্তির পাশাপাশি উদ্বেগও রয়ে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রক সূত্রে খবর, এখনও প্রায় দু’ডজনেরও বেশি ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজের উভয় প্রান্তে আটকে আছে। সেগুলিকে নিরাপদে বের করে আনার জন্য ইরানের সঙ্গে ক্রমাগত যোগাযোগ রাখছে নয়াদিল্লি। জাহাজ মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা জানিয়েছেন, ‘জগপ্রকাশ’ নামের আরও একটি পেট্রোল ট্যাঙ্কার ইতিমধেই হরমুজ পেরিয়ে ভারতের পথে রওনা দিয়েছে।